নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেট কোর্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর দিকগুলো খতিয়ে দেখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারপ্রক্রিয়ার জুরি নির্বাচন শুরু হয়েছে। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক এবং ইউটিউবের মতো প্রভাবশালী প্ল্যাটফর্মগুলোর আসক্তি সৃষ্টিকারী ডিজাইন কীভাবে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা যাচাই করতেই এই বিচারকাজ।
এই আইনি লড়াইয়ের সূচনা হয়েছিল দুজন কমবয়সী বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে। ইলিনয়ের ১৬ বছর বয়সী কিশোরী এস জে এবং মিসিসিপির ১৮ বছর বয়সী তরুণী কে ডি বি আদালতে দাবি করেছিলেন যে, এসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিকর কার্যপ্রণালীর কারণে তাঁরা মারাত্মক স্বাস্থ্যগত জটিলতার শিকার হয়েছেন।
তবে বিচারকার্য শুরু হওয়ার আগেই দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। বাদীপক্ষ প্রথমে টিকটক ও ইউটিউবের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায়। পরবর্তীতে ট্রায়াল শুরুর ঠিক আগে মেটা কর্তৃপক্ষও এস জে এবং কে ডি বির সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন করে।
মেটার সঙ্গে সমঝোতার ফলে এই বহুল আলোচিত মামলাটি এখন আইনগতভাবে কেবল স্ন্যাপের বিরুদ্ধেই পরিচালিত হচ্ছে। মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ধরনের আইনি সমঝোতা এবং বিচার প্রক্রিয়া সামগ্রিক মূল্যায়নেরই একটি স্বাভাবিক অংশ।
কোম্পানিটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, তারা নিজেদের অতীতের রেকর্ড এবং তরুণদের সুরক্ষায় ব্যবহৃত বিভিন্ন টুলের কার্যকারিতা প্রমাণ করতে আদালতে লড়াই চালিয়ে যাবে। তবে এই পুরো পরিস্থিতির বিষয়ে স্ন্যাপের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
আইনজীবীরা মনে করছেন, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কাজের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে এই আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁরা এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
বর্তমান এই মামলাটিকে বিশ্বজুড়ে বিচারাধীন হাজার হাজার অনুরূপ মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট কেস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মামলার রায় বা চূড়ান্ত ফলাফল ভবিষ্যতে এই সংক্রান্ত অন্যান্য মামলার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর