নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
হোটেল মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে প্রতিবছর প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করে থাকেন। গত এক দশক ধরে কেবল শহর অঞ্চলেই নয়, বরং এর বাইরে পাহাড় এবং সমুদ্রের কোলঘেঁষা জনপ্রিয় মেরিন ড্রাইভ এলাকা জুড়েও পর্যটন খাতের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।
এসব এলাকার প্রায় সাত শতাধিক আবাসিক হোটেল, কটেজ ও রিসোর্টের বিরুদ্ধে মূলত অগ্নিনিরাপত্তার মারাত্মক ঘাটতি, আইনগত পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকা এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনের সুগন্ধা এবং কলাতলী এলাকার তিনটি পাঁচ তারকা মানের হোটেল-রিসোর্টসহ ছোট ও মাঝারি আকারের প্রায় ২০টি হোটেল-রিসোর্ট সরেজমিন পরিদর্শন করে এসব বিভিন্ন অনিয়মের বাস্তব চিত্র দেখতে পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজারে কর্মরত বিশিষ্ট জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আহমদ গিয়াস নিজের মন্তব্য প্রকাশ করে জানান যে, হাতে গোনা কয়েকটি তারকা মানের হোটেল ব্যতিরেকে অধিকাংশ আবাসিক হোটেলেই কোনো ধরনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কিংবা বৈধ পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পয়ঃশোধনাগার বা ইটিপিও অনুপস্থিত রয়েছে এবং কোনো ধরনের বড় দুর্ঘটনা ঘটার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মতো কোনো বিকল্প বা জরুরি পথও অনেক প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদাসীনতা ও নিয়মিত নজরদারির চরম অভাবেই মূলত এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই দিনের পর দিন নির্বিঘ্নে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান এই অভিজ্ঞ সাংবাদিক।
অন্যদিকে, কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লাইসেন্স প্রদানকারী শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, বর্তমানে কেবল মানসম্মত সব তারকা হোটেলেই যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বলবৎ রয়েছে।
তিনি আরও জানান যে, এর বাইরে মাঝারি মানের মোট ৫৩টি হোটেল ও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ অগ্নিনিরাপত্তার লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য ইতিমধ্যে আবেদনপত্র জমা দিয়েছে, যার মধ্যে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে মাত্র ২৩টি প্রতিষ্ঠানকে বৈধ লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।
যাঁরা এখনও এই লাইসেন্স সংগ্রহ করেননি, ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিয়ম অনুযায়ী তাঁদেরকে পর্যায়ক্রমে সতর্কতামূলক নোটিশ পাঠানো হচ্ছে বলে জানান এই পরিদর্শক।
এদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সচিব সানজিদা বেগম এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে জানান যে, অধিকাংশ হোটেলের ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং এই সংক্রান্ত কাজে দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবলের তীব্র অভাব রয়েছে, যার ফলে প্রায়শই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
তিনি আরও যোগ করেন যে, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিয়মিত বা অনিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় এই ত্রুটিপূর্ণ ও বিপজ্জনক বিষয়গুলো প্রায়ই তাঁদের চোখের সামনে ধরা পড়ে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর