নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় অবস্থিত এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের অফিস ও গুদামঘরে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদীকে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। মামলার বাদীকে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আজ শনিবারের মধ্যে যদি কোনো ধরনের সমঝোতা না করা হয়, তবে সবার আগে তাঁর মৃতদেহ বা লাশ পড়ে থাকবে।
গত গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক এগারোটার দিকে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক এবং মামলার বাদী আফসার উদ্দিনকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে এই ভয়ভীতি দেখানো হয়।
এই হুমকির বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তিনি ইতোমধ্যে বাদীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। এমনকি বাদীর সঙ্গে ওই হুমকিদাতা ব্যক্তির মুঠোফোনে হওয়া কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডও তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ সেই অডিও রেকর্ডটি গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করছে এবং এই হুমকির বিষয়টিও চলমান মামলার তদন্তের পরিধিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
এদিকে, কুরিয়ার মামলার বাদী আফসার উদ্দিনের সঙ্গে এই হুমকির ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মামলার বাদীকে সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই হামলার ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও, মামলার মূল অভিযুক্ত সাইফুল এবং জুয়েল এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নাম ব্যবহার করে মূলত তাঁদের নেতৃত্বেই কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় ও গুদামে ওই হামলা চালানো হয়েছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বাদীর সঙ্গে হুমকিদাতা ব্যক্তির সেই ফোনালাপের অডিও রেকর্ডে শুনতে পাওয়া যায় যে, কলার প্রথমে সালাম দিয়ে আফসারকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, ভাই মামলার বাদী তো আপনি হলেন, এখন আপনার নিজের মামলার বাদী কে হবে?
ওই কথার প্রেক্ষিতে বাদী আফসার পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, কোনটা ভাই? জবাবে হুমকিদাতা রাগান্বিত সুরে বলেন, কোনটা সেটা কি আপনি বোঝেন না?
এর ঠিক পরপরই ওই ব্যক্তি অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় গালাগাল শুরু করেন এবং বাদীকে হুমকি দিয়ে বলেন, আগামী কাল অর্থাৎ শনিবারের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ করে বিষয়টি মীমাংসার ব্যবস্থা করা না হলে তোর লাশ মাটিতে পড়ে থাকবে।
এরপর বাদী কৌতূহলী হয়ে ওই ব্যক্তির আসল পরিচয় জানতে চান। কিন্তু উত্তরদাতা পরিচয় না দিয়ে উল্টো বলেন, তোর বাপ বলছি। এই কথা বলে তিনি আবারও অডিওজুড়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, কালকের দিন তোকে সময় দিলাম, তোর বাপের সঙ্গে কথা বলে এই ঝামেলার দ্রুত শেষ করতে বল। নয়তো সবার আগে তোর লাশটাই সবার আগে পড়ে থাকবে।
ব্যবস্থাপক আফসার পুনরায় নিজের কৌতূহল প্রকাশ করে পরিচয় জানতে চাইলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি বলেন, নাম-পরিচয় জানিস না, কে তোকে ফোন দিতে পারে বল তো?
এই পর্যায়ে বাদী নিজে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক নন বলে বিষয়টি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন। তখন ফোনের ওপার থেকে বলা হয়, মালিক না তো তুই মামলার বাদী হইছোস কেমনে? এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই হুমকিদাতা ব্যক্তি মোবাইল ফোনের লাইন কেটে দেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার সময় হাজারীবাগে অবস্থিত এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের গুদাম ও কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল। হামলাকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে, এখন থেকে নিয়মিত জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে প্রদান করতে হবে। ভাঙচুর শেষে সন্ত্রাসীরা সেখান থেকে কয়েক লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের সিসিটিভি ক্যামেরাও খুলে নিয়ে পালিয়ে যায়।
প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা নিজেদেরকে কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের অনুসারী বা লোক হিসেবে পরিচয় দিয়েই ওই ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ দুই বছর আগে সিকদার গ্রুপের কাছ থেকে বৈধ চুক্তির মাধ্যমে বর্তমান জমিটি ভাড়া নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই জমির ভাড়া ইমনকে পরিশোধ করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে।
কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় ও গুদামে হামলা ও ভাঙচুরের এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর