ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বিএনপি নেতাকে দুই বালুমহালের দখল হস্তান্তর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 20, 2026 ইং
সুনামগঞ্জে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বিএনপি নেতাকে দুই বালুমহালের দখল হস্তান্তর ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

সুনামগঞ্জের প্রখ্যাত যাদুকাটা নদীর দুটি প্রধান বালুমহাল কোনো ধরনের দরপত্র আহ্বান ছাড়াই স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার নিয়ন্ত্রণে অর্পণ করেছে জেলা প্রশাসন। ভূমি বিভাগের বিশেষ নির্দেশনার ভিত্তিতে গতকাল সোমবারের শেষভাগে তাকে দেশের এই বৃহত্তম বালুমহাল দুটির নিয়ন্ত্রণ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

যথাযথ দরপত্র প্রক্রিয়া এড়িয়ে নদীর এই অংশগুলোর দখল পাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম নাছির উদ্দিন। তিনি তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন এবং সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলার হলহলিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং যাদুকাটা-২ মহালের সাবেক ইজারাদার নাছির উদ্দিন আগামী ২০২৭ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা পর্যন্ত ওই দুটি স্থান থেকে নিয়মিত বালু উত্তোলন করবেন।

প্রশাসনের এই পদক্ষেপের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তাপস শীল। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে মন্ত্রণালয় থেকে আসা সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকেই তাকে এই নিয়ন্ত্রণ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আইনগত কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন যে ভূমি বিভাগ হলো তাদের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ এবং তারা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া নির্দেশনা মেনেই পুরো কাজটি সম্পন্ন করেছেন।

তবে সরকারি দপ্তরের এমন বিশেষ আদেশের মাধ্যমে কাউকে বালু তোলার অনুমতি প্রদান করাকে সঠিক বলে মনে করছেন না এই মহালেরই একজন সাবেক ইজারাদার। তার মতে, আইন অনুযায়ী জেলা ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে উন্মুক্ত দরপত্র কিংবা খাস আদায়ের মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার বিধান থাকলেও এখানে তা মানা হয়নি।

প্রশাসনিক বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ নামের এই দুটি মহাল বাংলা ১৪৩২ সনের জন্য ১০৮ কোটি টাকার বিনিময়ে ইজারা নিয়েছিল জিনান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহ রুবেল আহমদ এবং মেসার্স তাহিয়া স্টোন ক্রাশারের স্বত্বাধিকারী নাছির উদ্দিন।

আইনগত ও রিটসংক্রান্ত নানা জটিলতার বেড়াজালে পড়ে ওই ইজারাদারেরা মহাল দুটির দখল পেতে দীর্ঘ পাঁচ মাস সময়ক্ষেপণ করেন এবং এরপরেই মূলত বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।

বাংলা বছর সমাপ্ত হওয়ার আগেই নিজেদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন ওই দুজন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল অতিরিক্ত পাঁচ মাস বালু উত্তোলনের আইনি অনুমতি লাভ করা।

আদালত রিটকারীদের অনুকূলে রায় দিলে স্থানীয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে এবং গত ১৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের শুনানির পর রিটকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত নন মর্মে চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হয়।

এরপর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহাল দুটিতে সব ধরনের বালু উত্তোলন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সর্বসাধারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং নতুন করে খাস আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

চলতি ১৪৩৩ বাংলা সনের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য নতুন ইজারাদার নিয়োগের উদ্দেশ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর জেলা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আহ্বান করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত করা হয়।

এই পরিস্থিতির মাঝেই ইজারাদারেরা ভূমি মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হিসেবে উপস্থাপনপূর্বক বাকি সময়ের জন্য বালু উত্তোলনের বিশেষ অনুমতির প্রার্থনা জানান।

গত ২২ সেপ্টেম্বর ভূমি বিভাগ এক আদেশে কেবল নাছির উদ্দিনকে এই দুটি মহাল থেকে বালু সংগ্রহের একক অনুমোদন প্রদান করে, যা নিয়ে পরবর্তীতে আইনি জটিলতা তৈরি হয়।

গত তিন বছরের গড় বাজারদরের ওপর বাড়তি ১২ শতাংশ হারে মূল্য নির্ধারণ করে এই অনুমোদন দেওয়া হয় এবং বাকি সময়ের জন্য রাজস্ব ধরা হয় ৪২ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৪২২ টাকা।

মন্ত্রণালয় থেকে আশানুরূপ অনুমতি না পাওয়ায় অপর ইজারাদার শাহ রুবেল আহমদ নিজেকে বঞ্চিত দাবি করে গত ২৯ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা দায়ের করেন।

আদালত সেই সময় ভূমি মন্ত্রণালয়ের আদেশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করলেও পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে সেই রিট মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত ১৫ অক্টোবর একই বিষয়কে কেন্দ্র করে মহালের আরেক সাবেক ইজারাদার রতন মিয়া উচ্চ আদালতে রিট করেন, যার কার্যকারিতা গত রোববার স্থগিত হয়ে যায়।

আদালতের এই আইনি প্রক্রιয়া শেষ হওয়ার পর অবশেষে ভূমি বিভাগের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আলোকেই প্রশাসন গতকাল নাছির উদ্দিনের হাতে বালুমহাল দুটির দখল হস্তান্তর সম্পন্ন করে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সুনামগঞ্জ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার ও জেলা প্র

সুনামগঞ্জ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ সুপার ও জেলা প্র