নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলায় এক নারী নির্যাতনের দায়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক পদ থেকে মোজাম্মেল হক (সোহেল) এবং তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে কেন্দ্রীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা প্রকাশ করা হয়। এর পূর্বেও বয়োবৃদ্ধ মা ও বাবাকে প্রহার করার অপরাধে এই নেতাকে দল থেকে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা তারা মিয়ার সন্তান হিসেবে পরিচিত।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সামলানো যুগ্ম সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষর করা ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে মোজাম্মেল হক সোহেলকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন যৌথভাবে এই শাস্তির আদেশ কার্যকর করেছেন।
এলাকার লোকজনের ভাষ্যমতে, গত সোমবার রাতের বেলা নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) এলাকার তৎকালীন সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হক বিভিন্ন পূজামণ্ডপ দেখতে যান। সে সময় উপজেলা সদরের কোর্ট সড়কের গুহিয়ালা এলাকার প্রয়াত অচিন্ত্য চন্দ্র দাসের সহধর্মিণী অর্চনা রানী দাস তাঁর পায়ের ওপর লুটিয়ে পড়ে ক্রন্দন শুরু করেন। আড়াই মিনিটের কিছু বেশি সময়ের এই ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র ইন্টারনেট মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল হওয়া ওই দৃশ্যগুলোতে দেখা যায়, নারীটি কাঁদতে কাঁদতে মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের নানা কথা বলছেন। সংসদ সদস্যের সাথে থাকা কিছু লোক তাঁকে সেখানে নালিশ করতে বারণ করলেও জনপ্রতিনিধি তাঁর কথা শোনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে ওই নারী জানান যে, তাঁর ভাইয়ের সাথে টাকার লেনদেন নিয়ে বিরোধের কারণে তাঁকে মারধর করা হয়েছিল।
পূর্বের ঘটনা সূত্রে জানা যায়, সম্পত্তি লিখে না দেওয়ার জেরে জন্মদাতা মা-বাবাকে প্রহার করার দায়ে গত ৪ জুলাই মোজাম্মেলকে দল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে মা-বাবাকে সাথে নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সুপারিশ করার পর গত ৩০ জুলাই তাঁর বহিস্কারের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক অভিযোগ প্রসঙ্গে মোজাম্মেল হক সোহেল দাবি করেন যে, তিনি প্রতিপক্ষের গভীর চক্রান্তের শিকার হয়েছেন। আগের বারও বিরোধীরা তাঁকে ফাঁদে ফেলেছিল বলে তিনি জানান। তিনি দাবি করেন যে, তিনি মা-বাবার একমাত্র সন্তান হওয়ায় জমি লিখে নেওয়ার জন্য তাঁদের মারার কোনো দরকার নেই, কারণ তাঁদের সব সম্পত্তিই তাঁর। তাঁর বাবা ক্যানসার রোগী হিসেবে নিয়মিত কেমোথেরাপি নিচ্ছেন এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে মা-বাবা না বুঝে কিছু বলে থাকতে পারেন যা অন্যরা বাড়িয়ে প্রচার করেছে।
অর্চনা রানীর অভিযোগের বিষয়ে মোজাম্মেল বলেন, প্রায় সাত বছর আগে ওই নারীর ভাবিকে তিনি এক লাখ টাকা ঋণ দিয়েছিলেন। ওই অর্থ পরিশোধ না করা নিয়ে তাঁদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। পরে প্রতিপক্ষের লোকজন ওই নারীকে বুঝিয়ে সংসদ সদস্যের সামনে নিয়ে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অসত্য ও ভুয়া অভিযোগ তুলিয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর