ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বেসরকারি খাতের চেয়ে সরকারি সংস্থায় তিন গুণ বেশি ঋণ সৌদি আরবে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2026 ইং
বেসরকারি খাতের চেয়ে সরকারি সংস্থায় তিন গুণ বেশি ঋণ সৌদি আরবে ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

সৌদি আরবের আর্থিক খাতের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংকিং সেক্টর থেকে প্রদানকৃত মোট ঋণের একটি বিশাল অংশ মূলত সরাসরি সরকারি খাতের বিভিন্ন সংস্থাকে টিকিয়ে রাখতে ব্যয় করা হচ্ছে। গত আগস্ট মাসের হিসাব অনুযায়ী, দেশের বেসরকারি বাণিজ্য খাতের তুলনায় রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে ঋণ বিতরণের গতি প্রায় তিন গুণ বেশি ছিল। এমবিএস হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রধান অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং দেশজুড়ে কাঠামোগত সংস্কার সাধন; কিন্তু প্রথম দুটি লক্ষ্য অর্জন যদি ক্রমাগত দুরূহ হয়ে দাঁড়ায়, তবে তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তৃতীয় প্রতিশ্রুতি অর্থাৎ সংস্কার প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ অগ্রগতির ওপর।

অবশ্য নিরপেক্ষভাবে বিচার করলে এটা স্বীকার করতেই হবে যে, বর্তমান শাসকের প্রত্যক্ষ উদ্যোগে বিগত বছরগুলোতে যেসব যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেগুলোর বহু বিষয় এখন সৌদি সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন সমাজজীবনে অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়েছে। এই প্রগতিশীল পদক্ষেপগুলোর তালিকায় রয়েছে নারীদের ওপর পুরুষদের অভিভাবকত্ব প্রথায় আনীত বিভিন্ন আইনি শিথিলতা, তাদের নিজস্ব মোটরগাড়ি চালনার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অধিকার প্রদান এবং দেশের শ্রমবাজারে নারী সমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ বহুগুণ প্রসারিত করার মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার কার্যক্রম।

তবে ঐতিহাসিক বাস্তবতার আলোকেই সৌদি রাজপরিবার বা দেশটির ক্ষমতাসীন অভিজাত শ্রেণি সব সময়ই নিজেদের অভ্যন্তরীণ কট্টর ইসলামপন্থীদের প্রভাব নিয়ে গভীর আশঙ্কায় ভুগেছে, ঠিক যেভাবে তারা বরাবরই নানা বহিরাগত শত্রুর সম্ভাব্য আক্রমণ নিয়ে তটস্থ থেকেছে। যুবরাজের রাজনৈতিক পরিচয়ের মূল ভিত্তি বা প্রধান চালিকাশক্তিই হলো তাঁর ঘোষিত এই বহুমুখী সংস্কার কর্মসূচি, যা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও তাঁর পরিচিতি তৈরি করেছে। অথচ এই সংস্কারগুলোই শেষ পর্যন্ত এমন এক বিপরীত পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে, যার ফলে দেশের ভেতরের অসন্তুষ্ট ও সরকারবিরোধী মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিরা আরও সহজে একত্রিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।

সৌদি আরবের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর মডেলে প্রচলিত অর্থে কোনো ধরনের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অস্তিত্ব না থাকলেও, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যাদের ওপর শাসন চালানো হয় সেই সাধারণ জনগণের মৌন সম্মতি এবং সক্রিয় সমর্থন বজায় রাখা শাসকদের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত বাধ্যতামূলক। মোহাম্মদ বিন সালমানকে যে কোনো মূল্যে আধুনিক, নিরাপদ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মর্যাদাপূর্ণ একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে গভীর আস্থার জন্ম হয়েছিল, তা যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

এই সামগ্রিক ও জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে অতীতে তৈরি হওয়া বিভিন্ন টানাপোড়েনপূর্ণ ও শীতল সম্পর্ক পুনরায় জোড়া লাগানোর বা পুনর্গঠন করার ক্ষেত্রে তাঁর সাম্প্রতিক সদিচ্ছা ও আগ্রহ প্রকাশ আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে। তিনি নিজেই অতি সম্প্রতি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন যে, গোটা উপসাগরীয় এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ‘অবিভাজ্য’। এর সহজ অর্থ হলো, এই ভৌগোলিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত কোনো একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক নিরাপত্তাকে কখনোই প্রতিবেশী অন্য কোনো দেশের নিরাপত্তা থেকে আলাদা বা বিচ্ছিন্ন করে বিবেচনা করার কোনো অবকাশ নেই। এমনকি এই বক্তব্যের তাৎপর্য আরও জোরালো হয়েছে যখন বিগত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সরকারের একজন শীর্ষস্থানীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হুবহু একই ধরনের অভিব্যক্তি ও চিন্তাভাবনা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করেছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের কাছে লজ্জাজনকভাব

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের কাছে লজ্জাজনকভাব