নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার হেলাই গ্রামের রুকাইয়া পারভীন নিজের প্রবল আগ্রহ ও বুদ্ধিমত্তার বলে প্রকৌশলী হওয়ার উচ্চাশা বাস্তবায়নে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন।
মাধ্যমিকের ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান শাখা থেকে প্রতিদ্বন্দিতা করে তিনি সমস্ত বিষয়ে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ অর্জন করে অনন্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
ব্র্যাক ব্যাংক ও প্রথম আলো ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অপরাজেয় তারা শিক্ষাবৃত্তির আর্থিক সহযোগিতায় কলেজ পর্যায়ে নিজের পড়ালেখা অব্যাহত রেখে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছেন।
তাঁর এই চমৎকার ধারাবাহিক ফলাফল ও দৃঢ় মনোবলের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ওই এলাকার বাসিন্দা রকিব মল্লিক ও লাভলী ইয়াসমিন দম্পতির তিন কন্যাসন্তানের মধ্যে সবার ছোট হলেন কৃতী শিক্ষার্থী রুকাইয়া পারভীন।
তাঁর পিতা রকিব মল্লিক পেশাগতভাবে একজন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকচালক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
প্রতিদিন গাড়ি চালিয়ে যে সামান্য অর্থ উপার্জন হয়, তা দিয়েই অত্যন্ত টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে তাঁদের সংসার চলে।
তিন কন্যার মধ্যে সম্প্রতি একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছেন এবং আরেকজন এখনো শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাচ্ছেন।
সন্তানের পড়াশোনার খরচ জুগিয়ে যাওয়া জনক রকিব মল্লিকের পক্ষে সব সময়ই অত্যন্ত দুরূহ একটি ব্যাপার ছিল।
এরই মধ্যে ছোট মেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় চমৎকার ফলাফল করায় তাঁর উচ্চশিক্ষা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
মেয়ের পড়ালেখার ব্যয় কীভাবে নির্বাহ করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে অভিভাবক হিসেবে তাঁর দিন কেটেছে চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে।
ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে সহায়তার হাত বাড়িয়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল প্রথম আলো ট্রাস্ট।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রদত্ত আর্থিক সহায়তার ফলে পিতার সেই মানসিক চাপ অনেকাংশেই হ্রাস পায় এবং উচ্চমাধ্যমিকে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেন রুকাইয়া।
তিনি ২০২৪ সালে কালীগঞ্জের সলিমুন্নেছা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে জিপিএ-৫ সহ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন।
এরপর তিনি সরকারি মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।
চলতি ২০২৬ সালে ওই একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে প্রতিটি বিষয়ে জিপিএ-৫ লাভ করে তিনি নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।
নিজের আগামীদিনের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মেধাবী শিক্ষার্থী রুকাইয়া পারভীন নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন।
তিনি জানান যে তিনি ভবিষ্যতে পেশাগতভাবে একজন দক্ষ প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে উঠতে চান।
তাঁর মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনো ভালো বিভাগে ভর্তি হয়ে উচ্চতর শিক্ষা সম্পন্ন করা।
সেই নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সামনে রেখেই তিনি নিজের পড়ালেখার কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিয়মিতভাবে আর্থিক বৃত্তি পাওয়ায় তিনি এখন পর্যন্ত বড় কোনো আর্থিক বাধা ছাড়াই নিজের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারছেন।
বর্তমানে তিনি খুলনা শহরে অবস্থান করে বিশদভাবে কোচিং করছেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
মেয়ের এই গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত বোধ করছেন তাঁর পিতা রকিব মল্লিক।
তিনি উল্লেখ করেন যে তাঁর মেয়ের পড়ালেখা শেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ রয়েছে।
সে ছোটকাল থেকেই ভালো ফলাফল অর্জন করে আসছে এবং বড় হয়ে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন লালন করছে।
বর্তমানে সে খুলনায় অবস্থান করে কোচিংয়ের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে তিনি একজন সাধারণ ইজিবাইকচালক হওয়ায় প্রতিদিনের আয় দিয়ে কোনোমতে সংসার চালাতে গিয়েই হিমশিম খান।
এমন পরিস্থিতিতে তাঁর মেয়ের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য তিনি ব্র্যাক ব্যাংক ও প্রথম আলো ট্রাস্টের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর