নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার কেচুয়াতৈল এলাকায় অবস্থিত অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিকের গ্রামের বাড়ি। তার বাবা আয়নাল হক পেশাগতভাবে একজন সাধারণ কৃষক। চার ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় হলেন একমাত্র পুত্র আবু বকর। তিনি বর্তমানে রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজের ইতিহাস বিভাগে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত রয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি ভ্যানে করে সবজি পরিবহনের কাজ করেন আবু বকর। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়কারী এই যুবক এলাকায় বেশ ভালো ছেলে হিসেবেই পরিচিত। পাশাপাশি তিনি একটি বাইকার দলের সঙ্গেও যুক্ত আছেন এবং মোটরসাইকেল নিয়ে দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন দূর-দুরান্তে ভ্রমণ করে থাকেন।
আবু বকরের মা আসমাউল হুসনা দাবি করেছেন যে তার ছেলে অত্যন্ত নিরীহ, পরিশ্রমী এবং মেধাবী। তার মতে, একটি গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তার innocent ছেলেকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, গত বুধবার দুপুর দুইটার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট এবং চন্দ্রিমা থানা-পুলিশের যৌথ একটি দল তার বাড়িতে উপস্থিত হয়। তবে ওই সময় আবু বকরকে বাড়িতে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং পরিবারের সদস্যরা তার সঠিক অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
পরবর্তীতে একই দিন বিকেল চারটার দিকে এসআরবি-৫ এর একটি বিশেষ দল সাদাপোশাকে তার বাড়িতে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে আবু বকরকে না পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার বাবা আয়নাল হককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বাবা আয়নাল হক পুলিশকে জানান যে তার ছেলে বর্তমানে জেলার পবা উপজেলার হাটরামচন্দ্রপুর ঘোলহারিয়া গ্রামে তার এক মামার বাড়িতে আত্মগোপন করে আছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি সদস্যরা আয়নাল হককে সঙ্গে নিয়েই সেই মামার বাড়িতে অভিযান চালান। সেখান থেকেই অবশেষে আবু বকর সিদ্দিককে আটক করতে সক্ষম হয় যৌথ বাহিনী।
উক্ত অভিযানে আবু বকর সিদ্দিক ও তার বাবা আয়নাল হক উভয়কেই আটক করা হয় এবং তাদের পরিবারের ব্যবহারের একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
আটকের পর পিতা ও পুত্র উভয়কেই পুলিশের পক্ষ থেকে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা বা ডিবির নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তারা উভয়েই ঢাকায় অবস্থান করছেন।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর