নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিনদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির হার অত্যন্ত কমে গেছে। পাশাপাশি স্নাতক ডিগ্রি সমাপ্ত না করেই ঝরে পড়ার হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রশাসন বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যেসব সুবিধার কথা বলে থাকে, তার বেশিরভাগই বাস্তবায়ন করে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
একাডেমিক বছরওয়ারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ সেশনে সাতজন ভিনদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন তিনজন। এর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭-১৮ সেশনে ২২ জন ভর্তি হয়ে ষোলো জন কোর্স শেষ করেন।
পরবর্তী সময়ে ২০১৮-১৯ সেশনে ষোলো জন ভর্তি হলে সাতজন এবং ২০১৯-২০ সেশনে চৌদ্দ জনের মধ্যে দশজন পড়াশোনা শেষ করেন। এর পর থেকেই ভিনদেশি শিক্ষার্থী নিবন্ধনের সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ সেশনে মাত্র একজন, ২০২১-২২ সেশনে ছয়জন, ২০২২-২৩ সেশনে একজন এবং ২০২৩-২৪ সেশনে তিনজন ভর্তি হন। সাম্প্রতিক ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ সেশনে স্নাতক শ্রেণিতে কোনো ভিনদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।
অবশ্য ২০২৪-২৫ সেশনে এমফিল স্তরে দুজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। সবমিলিয়ে স্নাতক পর্যায়ে মোট একত্রিশজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও তাদের মধ্যে পনেরো জনের শিক্ষাজীবন অসমাপ্ত রয়ে গেছে।
এই অসমাপ্ত শিক্ষার্থীর হার মোট ভর্তিকৃতদের প্রায় আটচল্লিশ দশমিক ৩৯ শতাংশ। উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে মাস্টার্সে আটাইশের মধ্যে পাঁচজন, পিএইচডিতে আটের মধ্যে চারজন এবং এমফিলে পাঁচজনের মধ্যে দুজন ডিগ্রি শেষ করতে পারেননি।
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে মোট কুড়িজন ভিনদেশি শিক্ষার্থী পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে ২০১৮-১৯ সেশনের চারজন, ২০১৯-২০ সেশনের আটজন, ২০২০-২১ সেশনের একজন, ২০২১-২২ সেশনের ছয়জন এবং ২০২৩-২৪ সেশনের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
এই শিক্ষার্থীরা মূলত নেপাল, নাইজেরিয়া, ভারত ও গাম্বিয়া থেকে এসেছেন। তাঁদের প্রধান অভিযোগ হলো, নিবন্ধনের সময় নানাবিধ সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার অর্ধেকও তাঁরা পান না।
একাডেমিক জটের কারণে নির্ধারিত সময়ে পড়াশোনা শেষ করা সম্ভব হয় না, যার ফলে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়াতেও তাঁদের নানা রকম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বেশিরভাগ পাঠদান বাংলায় হওয়ায় ভাষাগত জটিলতার মুখে পড়েন তাঁরা। এছাড়াও আবাসিক হলের মানসম্মত আহার, উপযুক্ত কাউন্সেলিং এবং যথাসময়ে ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রেও রয়েছে ব্যাপক সীমাবদ্ধতা।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর