নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
হালকা কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরের আলো ফোটার আগেই ঝাড়ু, সাদা রঙের কৌটা, তুলি, পানির বালতি এবং ন্যাকড়া হাতে রাজপথে নেমে পড়েন দিনাজপুর বন্ধুসভার একঝাক তরুণ সদস্য। তাদের এই কর্মতৎপরতার মূল লক্ষ্য ছিল সড়কে ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা হ্রাসের পাশাপাশি চালক ও পথচারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে শহরের প্রাণকেন্দ্র কলেজ মোড় থেকে এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। ওই এলাকার রাস্তাগুলোতে থাকা স্পিডব্রেকার বা গতিরোধকগুলো অনেক সময় দূর থেকে চোখে পড়ে না, যার ফলে চালকেরা সঠিক সময়ে গাড়ির গতি কমাতে ব্যর্থ হন এবং প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
এই বিপত্তি এড়াতে কর্মীরা প্রথমে গতিরোধকের ওপর জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করেন এবং পরে তুলির সাহায্যে সাদা রং লাগিয়ে সেগুলোকে বেশ দূর থেকেই স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান করে তোলেন। ক্রমান্বয়ে তারা পৌরসভার বিভিন্ন প্রধান সড়কের বিপজ্জনক গতিরোধকগুলোতেও একই উপায়ে সাদা রঙের প্রলেপ দেন।
শুধু গতিরোধক দৃশ্যমান করাই নয়, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও ধুলাবালুতে অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া বিভিন্ন ট্রাফিক সাইনবোর্ডও পানি ও ভেজা কাপড় দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করেন তরুণ বন্ধুরা। সকাল ছয়টা থেকে শুরু হওয়া এই স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রম চলে সকাল নয়টা পর্যন্ত, যে সময়ে তারা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
স্বেচ্ছাসেবীদের এই ব্যতিক্রমী কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সাধারণ পথচারী ও মোটরযান চালকদের পাশাপাশি বিভিন্ন মহলের মানুষ। ইজিবাইকের চালক আকরাম হোসেন তার অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, রাতের বেলা বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের তীব্র আলোর কারণে গতিরোধক দেখা অসম্ভব হয়ে পড়ত, কিন্তু এখন সাদা রঙের কল্যাণে দূর থেকেই এগুলো চোখে পড়বে এবং গাড়ি চালাতে বেশ সুবিধা হবে।
সকালের দিকে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক পথচারী এই তরুণদের সাধুবাদ জানিয়ে বলেন যে, কাজটি মূলত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের করার কথা থাকলেও যুবকেরা নিজেদের উদ্যোগে তা বাস্তবায়ন করায় তা অত্যন্ত আনন্দের ও প্রশংসনীয়। তিনি তরুণদের এই মহৎ প্রচেষ্টার সফলতা কামনা করে তাদের জন্য শুভকামনা জানান।
সংগঠনের সভাপতি শবনম মুস্তারিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজেদের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে নাগরিক দায়িত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তারা এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, জনস্বার্থে এই ধরনের সমাজসংস্কারমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও একইভাবে চালু থাকবে।
দিনাজপুর বন্ধুসভার এই বিশেষ জনসচেতনতামূলক আয়োজনে অন্যান্যদের মধ্যে আরও সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব সরকার, নিবেদিতপ্রাণ সদস্য তাসনিম পৌষী, মারুফ হাসান, আতিক ইসলাম ও সজীব হোসেনসহ আরও অনেকে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর