নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ওএসডি পদে থাকা অতিরিক্ত সচিব মেহেদী হাসানকে তাঁর দীর্ঘ সময় ধরে দপ্তরে অনুপস্থিত থাকার দায়ে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে যখন বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সরকারি চাকরির বিধিমালা এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার সুস্পষ্ট অভিযোগে তাঁকে এই শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট মহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইকোনমিক মিনিস্টার পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কূটনৈতিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর নির্দিষ্ট তারিখে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ মিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন এবং নিয়ম অনুযায়ী সেখানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
সেখানে তাঁর ওপর অর্পিত চার বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদ সফলভাবে শেষ হওয়ার পর, তিনি ব্যক্তিগত কিছু কারণ দেখিয়ে পুনরায় আবেদন করেছিলেন। তাঁর আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, সন্তানদের চলমান শিক্ষাবর্ষের পড়াশোনা শেষ করা এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হোক।
তবে তাঁর এই বর্ধিত মেয়াদের আবেদনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে আসে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ গভীরভাবে পর্যালোচনা করে তা সম্পূর্ণভাবে নামঞ্জুর করে দেয়। একই সঙ্গে তাঁকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদেশ থেকে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করে নির্ধারিত কর্মস্থলে এসে নিয়মিত কাজে যোগদান করার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষের সেই নির্দেশ অমান্য করে তৎকালীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর তাঁকে ওয়াশিংটন দূতাবাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হলেও তিনি দেশে ফিরে আসেননি। দেশে প্রত্যাবর্তন করে অবিলম্বে নিজ কর্মস্থলে দাপ্তরিক কাজে যোগদানের পরিবর্তে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নেন এবং ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কালের জন্য বহিঃবাংলাদেশ বা বিদেশে ছুটির আবেদন দাখিল করেন।
সরকারি নিয়মনীতি ও উচ্চপর্যায়ের কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই তিনি দেশত্যাগ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে দপ্তরে অনুপস্থিত থাকেন। সব মিলিয়ে টানা ১ বছর ৬ মাস ৩ দিন কোনো প্রকার বৈধ অনুমতি ছাড়াই নিজ কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকার দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে তিনি অবশেষে ২০২৫ সালের ১৯ জুন তারিখে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের যোগদানপত্র জমা দেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর