নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দীর্ঘ এগারো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর অবশেষে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো এক পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ তাঁদের গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছেছে। এই হৃদয়বিদারক সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের এক পলক দেখার জন্য শোকার্ত আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা মোহনপুরে অবস্থিত ওই বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং শেষকৃত্যের প্রস্তুতি হিসেবে ইতিমধ্যে স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদ থেকে মোট চারটি খাটিয়া সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি, দাফন সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে পারিবারিক কবরস্থানের ভেতরে পাশাপাশি চারটি কবর খনন করার কাজ চলছে।
গত বুধবার দুপুরে গোসল সম্পন্ন করার পর এই চার জনের মরদেহের অবশিষ্টাংশ নিয়ে নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বিকেল ঠিক ৩টায় স্থানীয় বাঁধাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে নির্ধারিত পারিবারিক কবরস্থানেই তাঁদের দাফন সম্পন্ন করার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনাকবলিত এই চারজনের মরদেহের কেবল অবশিষ্টাংশ দেখে সেখানে উপস্থিত আত্মীয়স্বজনেরা গভীর শোকে সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেছেন। প্রিয়জন হারানোর এই বেদনায় পুরো বাড়ির পরিবেশ শোকার্ত হয়ে উঠেছে এবং স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
নিহত নাহিদুর রহমান তুহিনের মামা খাইরুল আলম গণমাধ্যমকে জানান যে, ঠিক দশ বছর আগে তুহিনের মা ইন্তেকাল করেছিলেন। নিহত তুহিনের বড় ভাই প্রিন্স পেশাগত কারণে সিলেটে চাকরি করেন। অন্যদিকে, চাকরি করার সুবাদেই তুহিন তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে রাজধানী ঢাকার মিরপুর এলাকায় বসবাস করতেন। তাদের পরিবারে কোনো বোন নেই এবং গ্রামের বাড়িতে একা বসবাস করেন তাঁদের বৃদ্ধ বাবা মতিয়ার রহমান।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর