ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে ফাইনালে ওঠার অপেক্ষায় বাংলাদেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 19, 2026 ইং
ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে ফাইনালে ওঠার অপেক্ষায় বাংলাদেশ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে বেগম খালেদা জিয়া নারী আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে ৪৭-১৩ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতীয় আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খায় স্বাগতিক দলের মেয়েরা। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার আগেই ২৪ গোল হজম করতে হয় বাংলাদেশকে, যেখানে তাদের নিজেদের নামের পাশে জমা হয়েছিল মাত্র ৮ গোল।

বিরতির পরেও খেলার গতিপ্রকৃতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। শেষ পর্যন্ত ৩৪ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। এই ফলাফল কেবল স্কোরবোর্ডের ব্যবধানই প্রকাশ করেনি, বরং দুই দলের প্রস্তুতি, খেলার গতি, শারীরিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতার মধ্যকার বিস্তর ফারাকও পরিষ্কার করে তুলেছে।

ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সাথে এই পার্থকার্যের বাস্তব দিকটি স্বীকার করে নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের কোচ আনা আলোনসো। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান যে, প্রতিপক্ষের তুলনায় তারা নানা দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছেন এবং শারীরিক সক্ষমতা ও হ্যান্ডবল দক্ষতার ক্ষেত্রেও যে ব্যবধান রয়েছে, তা আজকের মাঠে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

কোচের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ধরনের ঘাটতি মাত্র কয়েক মাসের অনুশীলনের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য দরকার খেলোয়াড়দের সারা বছর নিজেদের ফিটনেস বজায় রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা চালিয়ে যাওয়া এবং প্রশিক্ষণ শিবিরের বাইরেও নিজেদের ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুত রাখার মানসিকতা তৈরি করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এটি কোনো স্বল্পমেয়াদী কাজ নয় এবং ক্যাম্পের বাইরে অবস্থানকালেও খেলোয়াড়দের নিজ বাড়িতে প্রয়োজনীয় কাজ ও ফিটনেস ধরে রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, নেপালকে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে নিজেদের যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ দল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছে এমন শোচনীয় পরাজয় স্বাভাবিকভাবেই হতাশা সৃষ্টি করেছে খেলোয়াড়দের মনে। বিশেষ করে ম্যাচের সময় বাংলাদেশ গোলকিপার সুমাইয়া আক্তারকে পোস্টের নিচে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় সময় কাটাতে দেখা গেছে।

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় গোলকিপার সুমাইয়া আক্তারের বক্তব্যে দেশের হ্যান্ডবল অঙ্গনের দীর্ঘদিনের পুরোনো সমস্যাটিই আবারও সামনে চলে এসেছে। তিনি জানান যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত ম্যাচ খেলার পর্যাপ্ত সুযোগ পান না বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা। ২০১৯ সালের এসএ গেমসের পর থেকে সিনিয়র পর্যায়ে বড় কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তেমন একটা তৈরি হয়নি। তার মতে, নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পেলে ভারতের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গেও ব্যবধান কমিয়ে আনা সম্ভব হতো এবং এর জন্য প্রয়োজন উচ্চমানের প্রস্তুতি।

এদিকে এই ম্যাচে টানা দুই জয়ে ইতিমধ্যেই ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত দল। দলটির হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে একাই ১৩ গোল করে ম্যাচসেরা হয়েছেন ভাওয়ানা। তবে বাংলাদেশের সামনে ফাইনালে খেলার সুযোগ এখনো অটুট রয়েছে। আগামীকাল মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচে জয়লাভ করতে পারলে ফাইনালে আবারও এই ভারতের বিপক্ষেই মাঠে নামার সুযোগ পাবে স্বাগতিক দল।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অফিস রুমে ঝুলানো অবস্থায় পাওয়া গেল এনজিও কর্মীর মরদেহ

অফিস রুমে ঝুলানো অবস্থায় পাওয়া গেল এনজিও কর্মীর মরদেহ