নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্রথম ইনিংসের বিরতির ঠিক আগে ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদের পাওয়া সর্বশেষ শিকারে খানিকটা অবদান রাখতে পারেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাস। গ্লাভস হাতে সবসময়ই চমৎকার পারফর্ম করে থাকেন এই তারকা। তবে চলমান সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে উইকেটের একদম কাছে পজিশন নিয়ে যেভাবে জাস্টিন গ্রিভসকে স্টাম্পড করলেন লিটন, তাকে চোখধাঁধানো বললেও কম বলা চলে।
তবে এই সাফল্যের বাকি বড় অংশটুকুর একক দাবিদার কেবলই তরুণ বোলার হাসান। তাঁর নিখুঁত ডেলিভারিতে প্যাভিলিয়নে ফেরা পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে দুজনকে পুরোপুরি ঘোরে ফেলে বোল্ড করেন এই পেসার, যা ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছু নয়। গত পরশু প্রথম সকালে তাসকিন আহমেদের শিকার করা দুটি সাফল্য বাদে স্বাগতিকদের ম্যাচে টিকে থাকার ক্ষীণ আশাটুকু মূলত এই পেসারের কারণেই সম্ভব হয়েছে।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের প্রারম্ভিক সেশনটির কথাই ধরা যাক। এর আগের দিন শেষ দুই সেশনে কেবল একটি উইকেটের দেখা পেয়েছিল স্বাগতিক শিবির। সে সময় সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে উইকেটে অবিচল ছিলেন আমির জাঙ্গু, আর তাঁর সঙ্গে ক্রিজে থিতু হয়েছিলেন গ্রিভস। লাল বলের লড়াইয়ে দলের কোনো সম্ভাবনাই তখন আর অবশিষ্ট ছিল না। এমনকি এদিনের প্রথম ত্রিশ মিনিটেও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি ম্যাচের গতিপ্রকৃতিতে।
যদিও নতুন লাল চামড়ার বল হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিত্রপট সম্পূর্ণ পাল্টে দেন এই গতি তারকা। দুইশ বলের বেশি মোকাবিলা করা জাঙ্গুকে দিয়েই উইকেটের পতন শুরু হয়, যিনি কিনা বোলারের বল একেবারে ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন।
ঠিক পরের ডেলিভারিতেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বসেন রোস্টন চেজ। এর আগে গত মাসে আবুধাবির মাঠে আফগানদের বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেয়েছিলেন এই বোলার। আরও একটি হ্যাটট্রিক কি তবে ধরা দেবে? প্রায় তেমনই এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল! জশুয়া বিশপের শরীরে বল আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গে অনফিল্ড আম্পায়ার আউটের সংকেত দিলেও, পরবর্তীতে রিভিউয়ের কল্যাণে রক্ষা পান ব্যাটার, ফলে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করা হয়নি তাঁর।
এরপরও অবশ্য অর্জনের খাতায় কোনো কমতি ছিল না; লিটনের অবিশ্বাস্য স্টাম্পিংয়ের সুবাদে ম্যাচের দ্বিতীয় সকালেই উইন্ডিজ ব্যাটিং লাইনআপের ৫ উইকেট পকেটে পুরে নেন তিনি। এর মাধ্যমে ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়লেন এই পেসার, যা এসেছে মোট পাঁচটি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে। গত বছর পাকিস্তানের মাঠে রাওয়ালপিন্ডিতে এই ধারা শুরু, এরপর সেপ্টেম্বরে চেন্নাইয়ের মাটিতে ভারতের বিরুদ্ধেও এই অর্জন ধরা দেয়। চলতি বছরের আগস্টে ডারউইনে এবং গত মাসে আবুধাবিতেও একই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছেন তিনি।
উনিশ টেস্ট ম্যাচের ক্যারিয়ারে এবার সম্পূর্ণ নতুন একটি মাইলফলকের দেখা পেলেন এই ডানহাতি পেসার। নিজের দেশের মাঠে লাল বলের ক্রিকেটে এটিই তাঁর প্রথম পাঁচ উইকেট পাওয়ার ঘটনা। এই অর্জনের মাধ্যমে পাঁচবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার তালিকায় দেশের সব পেসারকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছেন তিনি। ৩৮ টেস্ট ম্যাচের ক্যারিয়ারে চারবার এই সাফল্য পাওয়া শাহাদাৎ হোসেনকে ছাড়িয়ে গেছেন এই তরুণ।
ভবিষ্যতে কতদূর পথ পাড়ি দেবেন এই বোলার, তা দেখতে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। সবেমাত্র তো তাঁর ক্যারিয়ারের শুরু হয়েছে। পরিমিত গতির রানআপ, নিপুণ লাইন ও লেংথের ধারাবাহিক বজায় রেখে বোলিং করা এবং বেশিরভাগ সময় ব্যাটারের অফ স্টাম্প লক্ষ্য করে বল ফেলা সত্যিই দারুণ ব্যাপার। আর এসব বৈশিষ্ট্য দেশের লাল বলের ক্রিকেটের আগামীদিনের পথচলার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা উইন্ডিজদের বিপক্ষে বর্তমান ম্যাচে আরও একবার প্রমাণ করলেন এই পেসার।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর