নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পেন্টাগনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি দেখভালের দায়িত্বে থাকা সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ডানা স্ট্রুল জানিয়েছেন, চলমান সামরিক পদক্ষেপ, কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ ও সামুদ্রিক কড়াকড়ি তেহরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে ব্যর্থ হয়েছে।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের এই গবেষক আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানের কৌশলগত ও অস্থিতিশীল অঞ্চলে নতুন যুদ্ধ কীভাবে সংকটের সুরাহা করবে, তার বিশ্বাসযোগ্য কোনো রূপরেখা ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু দেখাতে পারেননি।
আসন্ন ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে, যা নতুন সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নেতানিয়াহু যদি নির্বাচনে পরাজিত হন এবং কেবল অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তবে তাঁর পক্ষে নতুন লড়াই শুরু করা অত্যন্ত কঠিন হবে।
এর বিপরীতে আবার কিছু বিশ্লেষকের অভিমত হলো, যৌথ হামলার সম্ভাবনাকে হাতিয়ার বানিয়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর চাপ বাড়াতে পারেন নেতানিয়াহু।
এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হতে পারে একটি যৌথ সরকার গঠন করা, যার মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতায় টিকে থাকার মেয়াদ আরও দীর্ঘায়িত করা সম্ভব হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের অভিযানের পর একটি যৌথ মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন নেতানিয়াহু, যেখানে বিরোধীদেরও রাখা হয়েছিল।
জাতীয় নিরাপত্তার নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সে সময় বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন সদস্যকে যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যুক্ত করা হয়েছিল।
নেতানিয়াহুর জীবনীকার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাজাল মুয়ালেম মনে করেন, চলমান পরিস্থিতিকে হাতিয়ার বানিয়ে বড় ধরনের জরুরি সরকার গঠনের ডাক দিতে পারেন তিনি।
তবে বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাঁর এই পদক্ষেপকে তীব্র সন্দেহের চোখে দেখবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মাজাল মুয়ালেম আরও যোগ করেন যে, তেহরান নিজে থেকে কোনো আক্রমণ চালালে পরিস্থিতি ভিন্ন দাঁড়াবে, কিন্তু নিজ উদ্যোগে আক্রমণ পরিচালনা করা তাঁর জন্য বেশ কঠিন হবে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর