নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
জাতীয় স্বার্থ ও প্রয়োজনের তাগিদে দেশের সংবিধানে পরিবর্তন আনা যেতে পারে, তবে এর মূল ভিত্তি সর্বদা সুরক্ষিত ও অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। বুধবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সংবিধান দিবস উপলক্ষে গণফোরাম এই বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংবিধানপ্রণেতা ও দলটির ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন, যদিও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের রাজনৈতিক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন মন্ত্রী জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অন্যান্য সব সংসদীয় কমিটিতে ঠিকই অংশ নিচ্ছে, কিন্তু তারা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দিচ্ছে না।
বিরোধী দলের এমন আচরণের কড়া সমালোচনা করে মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, ৩৪টি কমিটির মধ্যে নাম দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট এই কমিটিতে তাদের অনীহা কেন। সব কমিটিতে অংশ নিলেও সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম না দেওয়ার পেছনে কী যুক্তি থাকতে পারে, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
বিরোধী দলের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষোভ বা অভিমানের কোনো অবকাশ থাকতে পারে না। রাষ্ট্র কোনোভাবেই আবেগের বশে বা রাগ করে চলতে পারে না, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হতে হবে সম্পূর্ণ যৌক্তিকতা।
খুব কম সময়ের মধ্যে দেশের প্রথম সংবিধান রচনার কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, সংবিধান দিবসে তিনি এর রচয়িতাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পৃথিবীর ইতিহাসে এত অল্প সময়ে সংবিধান তৈরি ও গ্রহণের নজির খুবই বিরল, যা আমাদের জন্য গৌরবের।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও উল্লেখ করেন যে, জনসাধারণের নানা চাহিদা মেটানোর জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যারা এই সংশোধনের পক্ষে অবস্থান নেবে, সাধারণ মানুষও তাদের পক্ষেই থাকবে।
বাংলাদেশি জনগণের ঘুরে দাঁড়ানোর চমৎকার ইতিহাস রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ কখনো বাড়াবাড়ি বা চরমপন্থা সহ্য করে না। বর্তমানের বাড়াবাড়ি ভবিষ্যতে কোথায় নিয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে এখনই গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে।
সংবিধানের মূল কাঠামো ঠিক রেখে স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী শাসন রুখে দিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ পথ চলতে হবে বলে তিনি মত দেন।
তিনি আরও যোগ করেন যে, মুক্তিযুদ্ধ একটি জাতির জীবনে অনন্য ঘটনা। নব্বই কিংবা পঁচাত্তরের গণঅভ্যুত্থান কিংবা চব্বিশের পটপরিবর্তন ঘটলেও একাত্তরের চেতনা ও ইতিহাস কখনো দ্বিতীয়বার ফিরে আসে না।
এদিকে সংবিধান সংস্কারের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধংদেহী পরিবেশ’ বলে অভিহিত করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে যে তাদের শর্ত অনুযায়ী সংস্কার না হলে ফের এক দফার আন্দোলন শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, একটি রাজনৈতিক দল মনে করছে জুলাই সনদ নিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে, অন্যদল বলছে তা অক্ষরে অক্ষরে মানা হবে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়ছে এবং এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
কেবল সাংগঠনিক শক্তি কিংবা সংসদে আসন সংখ্যার জোরে সমাজ পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা সম্পূর্ণ ভুল হবে বলে তিনি মনে করেন।
গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর