নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
টানা এবং নিরবচ্ছিন্ন সামরিক আক্রমণের মুখে পড়ে ইউক্রেনের এই শহরটির বহুসংখ্যক নাগরিক ইতোমধ্যে নিজেদের বসতি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। এই যুদ্ধের নির্মম পরিণতিতে অসংখ্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে, আর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার চারপাশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলো সেই চরম সহিংসতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
শহরটির বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতগুলো এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা পড়ে রয়েছে এবং বড় বড় রাজপথগুলোর ওপর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বিশেষ ড্রোন প্রতিরোধী জাল, যা চলমান যুদ্ধের ভয়ংকর বাস্তবতারই সাক্ষ্য দিচ্ছে। এসব প্রতিবন্ধকতার মাঝেও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে কিছু গণপরিবহন বা বাস চলাচল সচল রাখা হয়েছে এবং হাতে গোনা কয়েকটি দোকানপাট ও কফি শপ এখনো খোলা রয়েছে।
গত বুধবার শহরের অলস ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার এক বিরল দৃশ্য দেখা যায় যখন স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ তাদের পোষা কুকুরটিকে সঙ্গে নিয়ে বাইরে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। আবার তাদেরই কেউ কেউ রাস্তার ধারের কোনো একটি বেঞ্চে বসে আরাম করে কফি উপভোগ করছিলেন, যা একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরের বুকে এক টুকরো শান্তির বার্তা নিয়ে আসে।
ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক সম্মানিত ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেৎস এই পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেছেন যে নিয়মিত ও অবিরত গোলাবর্ষণে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত খেরসন শহরটি যেন হঠাৎ করেই নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী কোসেনকো গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তার পরিচালিত কিয়স্কে আসা ক্রেতাদের সংখ্যা অভাবনীয়ভাবে প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তার সেই ছোট্ট দোকানে ক্রেতার সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ঠিক ৫০ জনে, যা যুদ্ধের মাঝেও মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের এক অদ্ভুত চিত্র।
তবে সাধারণ মানুষের মনে এই সাময়িক স্বস্তি ও শান্তির পাশাপাশি যেকোনো মুহূর্তে নতুন করে ভয়ংকর হামলা শুরু হয়ে যাওয়ার গভীর আশঙ্কাও গভীরভাবে কাজ করছে।
বিশেষ করে রুশ সামরিক বাহিনী যাওয়ার সময় যেসব স্থলমাইন যত্রতত্র ফেলে গেছে, সেগুলোর উপস্থিতি স্থানীয় নাগরিকদের জন্য এখনো একটি মারাত্মক ও জীবনঘাতী বিপদের কারণ হয়ে রয়েছে।
এর পাশাপাশি প্রায় এক হাজার দুই শ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশাল ফ্রন্টলাইনের অন্যান্য বিভিন্ন অংশগুলোতে রুশ বাহিনীর সঙ্গে তীব্র লড়াই এখনো সমান তালে অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক অঞ্চলের যেসব এলাকা এখনো তাদের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে, সেগুলোর দখল নিতে রাশিয়া তাদের সামরিক অভিযান অবিরাম চালিয়ে যাচ্ছে।
শুধু তাই নয়, ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরজুড়ে রুশ বাহিনীর তীব্র বোমাবর্ষণের ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও অন্যান্য অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রুশ দখলদারত্বের অবর্ণনীয় তিক্ত অভিজ্ঞতা অতীতে অর্জন করেছেন এমন ৫২ বছর বয়সী এক পৌরকর্মী ওলহা চিউপিকোভা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিজের মন্তব্য প্রকাশ করেছেন।
তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে রাশিয়া অতীতে যা করেছে তা থেকে পরিষ্কার প্রমাণিত হয়েছে যে এই দেশের ওপর কোনোভাবেই ভরসা বা বিশ্বাস স্থাপন করা যায় না।
চিউপিকোভা আরও পরিষ্কার করে জানান যে যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক অপ্রীতিকর ঘটনা হঠাৎ ঘটে যেতে পারে, এমন শঙ্কা স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে এখনো গভীরভাবে বিরাজ করছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর