ঢাকা | বঙ্গাব্দ

রায়হান হত্যা: এসআই আকবরের ফাঁসি, দুজনের যাবজ্জীবন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 29, 2026 ইং
রায়হান হত্যা: এসআই আকবরের ফাঁসি, দুজনের যাবজ্জীবন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

আইনজীবী অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন শামীম জানান, দীর্ঘ ছয় বছর ধরে কারাগারে আটক রয়েছেন আসামি আশেক এলাহী। অন্যদিকে, অপর আসামি হাসান প্রায় দেড় বছর কারাভোগের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

তথ্য গোপন করার অপরাধে বিচারক তাঁদের দুজনকে সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। আইনজীবী আশা প্রকাশ করেন যে, আদালতের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাসান আত্মসমর্পণ করবেন এবং তাঁরা উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

অন্যদিকে, এই রায়ের ফলে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। তিনি দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করে তাদের শাস্তি অবিলম্বে কার্যকর করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

স্মরণ করা যেতে পারে, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর ভোরের দিকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ভেতরে নির্যাতন চালিয়ে রায়হানকে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরবর্তী দিন রাতেই নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ঘটনাটি ঘটার পর সংশ্লিষ্ট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ মোট চারজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং আরও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ১৪ অক্টোবর মামলার তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ১৫ অক্টোবর কবর থেকে রায়হানের মরদেহ তুলে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সরাসরি উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। উভয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রায়হানের শরীরে মোট ১১১টি আঘাতের ক্ষতচিহ্ন পাওয়া যায়, যার মধ্যে ১৪টি আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর প্রকৃতির।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০ অক্টোবর তথ্য গোপন করার এবং আকবরকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ফাঁড়ির টু-আইসি এসআই হাসান উদ্দিনকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

মূল অভিযুক্ত এসআই আকবর ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে একই বছরের ৯ নভেম্বর তাঁকে সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি একটানা কারাগারেই আটক ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট আকবর হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন এবং ১০ আগস্ট কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরবর্তীতে তাঁর জামিনের আদেশ স্থগিত করা হলেও তিনি নিম্ন আদালতে নিজে থেকে আত্মসমর্পণ না করে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত এই হত্যা মামলায় তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৫ মে আদালতে ছয়জন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই।

অভিযোগপত্রে নাম থাকা অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, এএসআই আশেক এলাহী (৪৩), কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ (৩২), কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), ফাঁড়ির টু-আইসির দায়িত্বে থাকা এসআই মো. হাসান উদ্দিন (৩২) এবং এসআই আকবরের আত্মীয় তথা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান (৩২)।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ওয়ারিকানের পাঁচ উইকেটে ২৭২ রানে অলআউট বাংলাদেশ

ওয়ারিকানের পাঁচ উইকেটে ২৭২ রানে অলআউট বাংলাদেশ