ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পোশাক শিল্পে এআই ব্যবহার ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 24, 2026 ইং
পোশাক শিল্পে এআই ব্যবহার ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট রাজধানী ঢাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিষয়ক একটি বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উক্ত সম্মেলনে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতা, নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হয়েছিলেন। তাদের প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল, উদীয়মান এআই প্রযুক্তি দেশের শিল্প খাত ও কর্মসংস্থানের ওপর ঠিক কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্মেলনের এই প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার সমান্তরালে অন্যদিকে গাজীপুরের একটি কারখানার চিত্র ছিল ভিন্ন। সেদিন রাত ১২টায় দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও পালা শেষে নিজের ঘরের দিকে ফিরছিলেন সেলাইকর্মী রহিমা (ছদ্মনাম)। অথচ তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে, তার কর্মসংস্থানস্থল ওই কারখানাটিতে এআই প্রবর্তন নিয়ে নীতিনির্ধারণী মহলে কী ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রস্তুতকারক ও উদ্যোক্তারা বর্তমানে উৎপাদন পরিকল্পনা প্রণয়ন, স্বয়ংক্রিয় পন্থায় মান পরীক্ষা, যন্ত্রপাতির সম্ভাব্য ত্রুটি বা বিকল হওয়ার আগাম বার্তা পাওয়া এবং বাজারের ভবিষ্যৎ চাহিদার পূর্বাভাস পাওয়ার মতো কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন। একই সময়ে সরকারের পক্ষ থেকেও জাতীয় এআই নীতি ২০২৬ থেকে ২০৩০-এর একটি খসড়া প্রস্তুত করে তা জনমতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে, যদিও এর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া এখনো বাকি রয়েছে।

এই প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে। যেসব কাজ মূলত একঘেয়ে প্রকৃতির এবং বারবার পুনরাবৃত্তি ঘটে, সেগুলোতে জনবলের ওপর চাপ বেশি থাকে। অথচ আধুনিক এআই মেশিন বা যন্ত্রপাতির মাধ্যমে এই ধরনের কাজগুলো অত্যন্ত সহজেই এবং তুলনামূলক কম খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব।

যেহেতু পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো খুব সহজেই যন্ত্রের মাধ্যমে করিয়ে নেওয়া যায়, তাই শ্রমিক ও কর্মীরা যদি নিজেদের দক্ষতাভিত্তিক কাজের উপযোগী করে গড়ে না তোলেন, তবে তারা পেশাগত জীবনে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। এই সংকট উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ কর্মী উভয় পক্ষেরই সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।

উক্ত সম্মেলনের একটি বিশেষ অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা মতামত ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বা সর্ববৃহৎ এআই মডেল উদ্ভাবন করার কোনো আবশ্যকতা নেই। বরং দেশের নিজস্ব শিল্প খাতের সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্রাকে অত্যন্ত দক্ষ ও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করাই হবে মূল লক্ষ্য।

আলোচনায় আরও উঠে আসে যে, একজন সাধারণ সেলাইকর্মী যদি শুধু চিরাচরিত সেলাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কারখানার মান পরীক্ষার আধুনিক যন্ত্র চালানো আয়ত্ত করতে পারেন, তবে শ্রমবাজারে তার ব্যক্তিগত কাজের আর্থিক মূল্যায়ন ও গুরুত্ব বরং বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আয়ারল্যান্ডে শিল্পীদের মাসিক ভাতার ইতিবাচক প্রভাব, সমীক্ষায়

আয়ারল্যান্ডে শিল্পীদের মাসিক ভাতার ইতিবাচক প্রভাব, সমীক্ষায়