ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে তীব্র বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ৫৬৫

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 1, 2026 ইং
ফ্রান্সে তীব্র বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ৫৬৫ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নানা বিষয়ে পুঞ্জীভূত অসন্তোষের জেরে ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে বড় ধরনের বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন বড় শহরে তীব্র বিক্ষোভ মিছিল ও পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সন্ধ্যার দিকে এই সহিংসতার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

গতকালের এই কর্মসূচির শুরুতে গতকাল বিকেল পর্যন্ত বেশির ভাগ বিক্ষোভ মিছিল শান্তিপূর্ণ অবস্থাতেই বজায় ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং রাজধানী প্যারিসের মিছিলের সমাপনী পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের জোরপূর্বক ছত্রভঙ্গ করে দিতে অভিযানে নামে পুলিশ।

একই ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে লিওঁ এবং তুলুজ শহরের ভেতরেও নিরাপত্তা বাহিনী চড়াও হয়ে টিয়ার গ্যাস বা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে মার্সেই শহরেও একটি মিছিলের শেষাংশে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। তবে রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্সেইয়ের ওই এলাকার পরিস্থিতি নিজ থেকেই শান্ত হয়ে আসে।

গতকালের এই বিক্ষোভটি গত ১৭ অক্টোবর দেশটিতে ঘটে যাওয়া দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনার পর থেকে হিসাব করলে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো অনুষ্ঠিত হলো। স্মরণ করা যেতে পারে যে, ওই নির্দিষ্ট দিনে পুরো ফ্রান্সজুড়ে বিভিন্ন দোকানপাট, সরকারি স্থাপনা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।

তবে আয়োজিত এবারের বিক্ষোভ সমাবেশে আগের দুটি শনিবারে অংশ নেওয়া মানুষের তুলনায় উপস্থিতির হার কিছুটা কম ছিল। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, গতকাল সারা দেশ মিলিয়ে সর্বমোট ৩ লাখ ২০ হাজার সাধারণ মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নেন।

শনিবারের এই সার্বিক বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, যারা ওই দিন রাতে আইন অমান্য করে সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হতে চায়, তাদের যথাযথভাবে মোকাবিলা করার জন্য প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ তাঁর বক্তব্যে আরও নিশ্চিত করেন যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শহরগুলোতে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোট ৫৬৫ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া সংঘর্ষ ও ধস্তাধ্বস্তির এই পুরো ঘটনায় মোট চারজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, গতকালের এই বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয়েছে এমন একটি সময়ে যখন চারদিকে হ্যালোইন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। প্যারিসের একজন বিক্ষোভকারী জেরোম রদ্রিগেজ সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যা-ই ঘটে যাক না কেন, ফ্রান্সের সামগ্রিক অর্থনীতির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে।

জেরোম রদ্রিগেজ আরও বলেন যে, এই খারাপ অবস্থার মূল কারণ হলো বর্তমানে গোটা দেশ পরিচালনা করছে একদল সম্পূর্ণ অযোগ্য মানুষ। তারা একদিকে কোটি কোটি ইউরোর বিশাল অঙ্কের হিসাব-নিকাশ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে, অথচ অন্যদিকে সাধারণ পরিবারগুলোকে সামান্য কয়েক সেন্টের ব্যবস্থা করতে গিয়েও চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ফরাসি শিক্ষাব্যবস্থার ক্রমাগত অবনতি, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর অসহনীয় চাপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ব্যবস্থার কঠোর পদ্ধতির বিরুদ্ধে মূলত প্রথমে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে তাঁদের এই ন্যায্য দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনও আন্দোলনে যোগ দেয়।

শুধু তা-ই নয়, এই সুযোগে নতুন করে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে ফ্রান্সে আলোচিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনও। জীবনযাত্রার ব্যয় যেকোনো মূল্যে কমিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট দাবিতে তারাও এই ধারাবাহিক আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হয়।

বর্তমান ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সরকারের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল এক মুহূর্তের মধ্যে দেশজুড়ে এই নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এর পেছনে বড় কারণ হলো, গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ফিচ ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় ঋণের ভবিষ্যৎ অবস্থানকে অপ্রত্যাশিতভাবে ‘নেতিবাচক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এই আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থার এমন মূল্যায়নের ফলে দেশটির সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনে দীর্ঘদিনের যে উদ্বেগ ছিল, তা আরও অনেক বেশি স্পষ্ট ও তীব্র হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে ফ্রান্সের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের বা জিডিপির প্রায় ১২০ শতাংশের কাছাকাছি একটি উচ্চ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নতুন করে ঋণ নেওয়ার খরচও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই নানামুখী সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে ফরাসি সরকার বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর তীব্র চাপের মুখে পড়েছে। এর ফলে উদ্ভূত এই জটিল পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দিয়ে উত্তরণের ক্ষেত্রে বর্তমান মাখোঁ সরকারের হাতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিকল্পের পথ দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে।

এদিকে ফরাসি ভূখণ্ডের এই বিক্ষোভের ঢেউ ইউরোপের অন্যান্য দেশের তরুণ সমাজ বা জেন-জি প্রজন্মের মধ্যেও একধরনের নতুন আন্দোলন ও প্রতিবাদের স্পৃহা জাগিয়ে তুলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল জার্মানির কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে।

শুধু জার্মানি নয়, প্রতিবেশী দেশ ইতালিতেও সাধারণ মানুষ তাদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসেন। এর মধ্যে গতকাল জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে কিছু মুখোশধারী বিক্ষোভকারী বিভিন্ন দোকানপাটে জোরপূর্বক ঢুকে লুটপাট চালিয়েছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
দিনাজপুর সদর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এম

দিনাজপুর সদর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এম