ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গুলিস্তান-সদরঘাট সড়ক হকারমুক্ত রাখতে কঠোর হুঁশিয়ারি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2026 ইং
গুলিস্তান-সদরঘাট সড়ক হকারমুক্ত রাখতে কঠোর হুঁশিয়ারি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

রাজধানীর ব্যস্ততম গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত সম্পূর্ণ সড়কটি সব ধরনের অবৈধ দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত রাখার জোরালো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শীর্ষ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে এই নির্দিষ্ট পথটিতে কোনো অবস্থাতেই ভাসমান ব্যবসায়ীদের দোকান স্থাপন করতে দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা সড়ক কিংবা পথচারী হাঁটার জায়গা দখল করার অপচেষ্টা চালাবে, তাদের সমস্ত পণ্যসামগ্রী বাজেয়াাপ্ত করা হবে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে সরাসরি গ্রেফতারের মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বুধবারের প্রথমার্ধে রাজধানীর গুলিস্তান অঞ্চলে পরিচালিত একটি বিশেষ উচ্ছেদ কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখার সময় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওই প্রশাসক সম্প্রতি পরিচালিত এই পরিদর্শনের সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে নগরীর জন চলাচল স্বাভাবিক রাখার এই দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এর আগে নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত একটানা তিন ঘণ্টা ধরে গুলিস্তানের ঢাকা ট্রেড সেন্টার এবং সংলগ্ন ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট এলাকায় করপোরেশনের পক্ষ থেকে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। এই বিশেষ কার্যক্রমে পথচারীদের হাঁটার জায়গা জবরদস্তিমূলকভাবে আটকে গড়ে তোলা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও অস্থায়ী দোকানপাট পুরোপুরি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযান পরিচালনার সময় ভারী বুলডোজার বা পে-লোডার জাতীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সমস্ত অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থলে থাকা বিভিন্ন মালামাল ও ব্যবসার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। ভাসমান বিক্রেতাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান যে তাদের ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট কিছু হাঁটার পথ, বিশেষ রাতের বাজার এবং ছুটির দিনের বাজার আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা যেন কেবল ওই নির্ধারিত স্থানগুলোতেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন, সেই নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বিশেষ করে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত যাতায়াতের মূল রাস্তাটি যেকোনো মূল্যে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন ও বাধাহীন রাখার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অভিযানের পরপরই পুনরায় রাস্তা ও পথচারীদের হাঁটার জায়গা দখল করে দোকান বসানোর প্রবণতা প্রসঙ্গে প্রশাসক হতাশা প্রকাশ করে জানান যে ভাসমান ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন উপায়ে আগেই বারবার সতর্ক করা হয়েছে। হকার সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার ফলপ্রসূ আলোচনা ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও উচ্ছেদকৃত স্থানে বারবার দোকানপাট তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বারবার এমন নিয়মভঙ্গের কারণে এখন থেকে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা ছাড়া প্রশাসনের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়। সরকারের নির্ধারিত বিধিমালা অমান্য করে কেউ যদি ফুটপাত বা সড়কে বসার দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের মালামাল কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্রেফতারের মতো কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

সাধারণ নাগরিকদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার এই মহৎ উদ্দেশ্যে শহরজুড়ে রাস্তা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার এই বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো তথ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে যে বুধবারের এই সুবৃহৎ অভিযানে সংস্থাটির চারজন অভিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে শতাধিক উচ্ছেদকর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ছয় প্লাটুন পুলিশ সদস্য অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পুরো কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।

এদিনের এই সফল অভিযান পরিচালনা করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম। তাঁর সঙ্গে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোনায়েদ কবীর সোহাগ, সম্পত্তি কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাছিবা খান এবং অন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম যৌথভাবে এই দায়িত্ব পালন করেছেন।

নগরবাসীর পথচলা পুরোপুরি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলার লক্ষ্যেই ফুটপাত দখলদারদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই ধরনের জনকল্যাণমুখী উচ্ছেদ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও একইভাবে অব্যাহত রাখা হবে বলে দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত দুই

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত দুই