নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বুকে গবাদি পশু বোঝাই একটি গাড়ি ছিনতাইয়ের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই আকস্মিক ঘটনার সময় কুশীলবদের মধ্য থেকে পঞ্চাশ বছর বয়সী মো. মিজানকে আটক করতে সক্ষম হয় নিরাপত্তাবাহিনী। পরবর্তী সময়ে খতিয়ে দেখে জানা যায়, ধৃত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সারা দেশের নানা থানায় খুন, লুণ্ঠন এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধের চৌত্রিশটি মামলা চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভুক্তভোগী পরিবহনটি থেকে মোট নয়টি গবাদি পশু নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের খুদিরামপুর নামক অঞ্চলে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে আজ রোববার বিকেলে হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মুনতাসীরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
নিরাপত্তাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একটি সাদা রঙের ব্যক্তিমালিকানাধীন মাইক্রোবাসে চেপে আসা পাঁচ থেকে ছয়জন দুষ্কৃতকারী ঢাকামুখী দ্রুতগামী সড়কের ওপর নীল রঙের একটি পশুবাহী পিকআপের গতিরোধ করে দাঁড় করায়। এরপর সশস্ত্র দলটির সদস্যরা ওই গাড়িতে থাকা মোট চারজন যাত্রীর মধ্য থেকে তিনজনকে জোরপূর্বক নিচে নামিয়ে দিতে সক্ষম হয়।
সেই মুহূর্তে অপর চতুর্থ ব্যক্তিকে গাড়ি থেকে নিচে নামানোর জন্য অপরাধীরা মারমুখী হয়ে টানাটানি ও ধস্তাধস্তি শুরু করে। ঠিক সেই সংকটপূর্ণ সময়ে ওই প্রধান সড়কে নিয়মিত টহল দেওয়ার দায়িত্বে থাকা হাইওয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হয়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই দুষ্কৃতকারীদের দলটি সেখান থেকে সটকে পড়ার পাঁয়তারা চালায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাৎক্ষণিক ধাওয়া করে তাদের মধ্য থেকে একজনকে পাকড়াও করতে সমর্থ হন।
অন্যদিকে, চক্রের বাকি সহযোগীরা তাদের ব্যবহৃত সাদা মাইক্রোবাসে চড়ে দ্রুত গতিতে পেছনের দিকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকেই নয়টি অবলা জীবসহ মূল গাড়িটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় জব্দ করে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটককৃত ব্যক্তি একজন অত্যন্ত সক্রিয় ও তালিকাভুক্ত অপরাধী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ পর্বেই তাঁর অতীত কর্মকাণ্ডের সুত্র ধরে সারা দেশের বিভিন্ন থানায় সংঘটিত খুন, ডাকাতি ও দস্যুতার মতো চৌত্রিশটি মামলার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
বর্তমানে এই ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য অপরাধীদের পাকড়াও করার উদ্দেশ্যে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি, আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ধারা অনুযায়ী পরবর্তী বিচারিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর