নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
নির্দিষ্ট কয়েকটি জিনগত এবং বংশগত বিপদের আশঙ্কা রোধ করা অসম্ভব হলেও, দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনে এই রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস করা সম্ভব।
আমাদের দেশের বিদ্যমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীদের স্তনসংক্রান্ত যেকোনো জটিলতা গোপনের এক ধরনের মানসিকতা লক্ষ করা যায়। চিকিৎসাসেবা গ্রহণ বিলম্বিত হওয়ার পেছনে এই ধরনের কুণ্ঠা এবং লজ্জাবোধ প্রধান ভূমিকা পালন করে।
পরিবারগুলোর উচিত ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর পাশে সহানুভূতি ও মানসিক বল নিয়ে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করা। ক্যানসার কোনো অভিশাপ নয়, এটি একটি সাধারণ রোগ মাত্র এবং এর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে।
অক্টোবর মাসজুড়ে পরিচালিত কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো এই সামাজিক ট্যাবু বা কুসংস্কারের দেয়াল ভেঙে ফেলা। আসুন সবাই নিজ নিজ পরিবারের নারীদের প্রতি অধিক যত্নবান হই এবং তাঁদের নিয়মিত স্বপরীক্ষা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমে অংশ নিতে উৎসাহিত করি।
লজ্জা ও সংকোচকে দূরে ঠেলে দিয়ে সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমেই একটি সুস্থ এবং ক্যানসারমুক্ত সমাজ গঠন করা বাস্তবসম্মত।
কুড়ি বছর বয়স অতিক্রম করার পর থেকে প্রতি মাসে অন্তত একবার ঋতুচক্র সমাপ্ত হওয়ার পরপরই নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটি পদ্ধতি। এই অভ্যাসের ফলে স্তনের যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন খুব দ্রুত ধরা পড়ে।
এছাড়াও বছরে অন্তত একবার কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট এক্সামিনেশন বা শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত বাঞ্ছনীয়।
চল্লিশ বছর কিংবা তার বেশি বয়স নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি এক থেকে দুই বছর অন্তর ম্যামোগ্রাম নামক বিশেষ এক্স-রে পরীক্ষা করানো আবশ্যক।
পরিবারে যদি পূর্বে কখনো স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পারিবারিক ইতিহাস বিদ্যমান থাকে, তবে আরও কম বয়সেই স্ক্রিনিং অথবা এমআরআই পরীক্ষা সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি।
এই গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাপরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদার।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর