নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিয়ের দিনক্ষণ ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে তৈরি হওয়া মনোমালিন্যের জেরে আত্মহত্যা করেছেন সামিউল নামের এক যুবক। গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার দিন কনের ঘটক এবং নিকটাত্মীয় নজরুল ইসলাম সামিউলদের বাড়িতে আসেন। সেখানে উপস্থিত থেকে তাঁরা কনের পোশাক এবং বিয়ের দেনমোহর বা কাবিননামা সংক্রান্ত বিষয়ে সামিউলের বাবা মিজানুর রহমানের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আলোচনান্তে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার কাবিন এবং এর পরদিন শুক্রবার বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। তবে সামিউল এই দিন নির্ধারণের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন এবং বৃহস্পতিবারই কাবিনসহ বিয়ের সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার জোরালো দাবি জানান।
নিহত সামিউলের বাবা মিজানুর রহমান পুরো ঘটনাটি বর্ণনা করে জানান, বিয়ের সার্বিক প্রস্তুতি ও দিনক্ষণ নিয়ে আলোচনা শেষ হওয়ার পর সামিউল তাঁর ওপর প্রচণ্ড অভিমান করে দ্রুত নিজের ঘরে চলে যান এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন।
বাবার সঙ্গে অভিমানের কিছুক্ষণ পরেই ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশ শব্দ না পেয়ে সামিউলের এক বন্ধু বাইরে থেকে জোরে চিৎকার শুরু করেন। সেই চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন দ্রুত দৌড়ে ঘরের জানালার কাছে গিয়ে ভেতরের দৃশ্য দেখতে পান।
জানালার ফাঁক দিয়ে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান যে, সামিউল ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে দ্রুত নিচে নামিয়ে উদ্ধার করা হয় এবং চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা সামিউলকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের মাতম চলছে।
ঘটনার বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী গণমাধ্যমকে জানান, এই ঘটনায় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।
ওসি শাহজাহান আলী আরও উল্লেখ করেন যে, সামিউলের মৃত্যুর প্রকৃত ও সঠিক কারণ উদ্ঘাটন করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর