ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ফলিক অ্যাসিডে ৭০ শতাংশ নিউরাল টিউব ডিফেক্ট প্রতিরোধ সম্ভব

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
ফলিক অ্যাসিডে ৭০ শতাংশ নিউরাল টিউব ডিফেক্ট প্রতিরোধ সম্ভব ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

আজ পালিত হচ্ছে নিউরাল টিউব ডিফেক্ট দিবস। মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় শিশুর মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড গঠিত হয় এই বিশেষ টিউব থেকে।

গর্ভাবস্থার শুরুর তিন মাসের মধ্যে এই টিউব যদি সঠিকভাবে গঠিত না হয়, তবে নিউরাল টিউব ডিফেক্ট দেখা দেয়। এর ফলে শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে নানা ধরনের গুরুতর জন্মগত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

এটি একটি অত্যন্ত জটিল সমস্যা হলেও পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। এই রোগ হওয়ার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে মায়ের শরীরে ফলিক অ্যাসিড বা ভিটামিন বি নাইনের অভাব এবং চারপাশের পরিবেশগত দূষণ।

সঠিক পদক্ষেপ নিলে নিউরাল টিউব ডিফেক্ট ৭০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই সুরক্ষার জন্য মোট চারটি প্রধান স্তম্ভ নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রথম স্তম্ভটি হলো গর্ভপূর্ব যত্ন, যেখানে গর্ভধারণ করার অন্তত তিন মাস আগে থেকেই মায়ের প্রয়োজনীয় পুষ্টির প্রস্তুতি শুরু করতে হবে।

দ্বিতীয় স্তম্ভ হিসেবে ফলিক অ্যাসিডের কথা বলা হয়েছে। সারা বছর ধরেই দেশের থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রাথমিক যত্ন কেন্দ্রগুলোতে এই ট্যাবলেট বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হয়।

গর্ভধারণের পরিকল্পনা করার তিন মাস পূর্ব থেকেই এই ট্যাবলেট নিয়মিত সেবন করা আবশ্যক।

তৃতীয় স্তম্ভ হলো খাদ্য ফর্টিফিকেশন। আটা ও ময়দাসহ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের সাথে ফলিক অ্যাসিডের মিশ্রণ বাধ্যতামূলক করা অত্যন্ত জরুরি।

চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে রয়েছে পারিবারিক ও সামাজিক পুষ্টি সচেতনতা। প্রতিটি পরিবারে শাকসবজি এবং ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

যদি গর্ভস্থ শিশুর এনেনকেফালি বা অসম্পূর্ণ মস্তিষ্ক দেখা দেয়, তবে সেই শিশু সাধারণত বেঁচে থাকে না। তবে স্পাইন বিফিডা বা দ্বিখণ্ডিত মেরুদণ্ড, মেনিনগোসিল এবং এনকেফালোসিলের মতো সমস্যাগুলো জন্মগ্রহণের পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নিরাময় করা সম্ভব।

যথাযথ সময়ে এই অস্ত্রোপচার না করা হলে আক্রান্ত শিশুদের শরীরে নানা ধরনের মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ রোগীর মাথায় পানি জমে যাওয়ার মতো হাইড্রোসেফালাস সমস্যা দেখা দেয়।

কিডনির জটিলতার ক্ষেত্রে প্রায় ৮৫ শতাংশ রোগীর প্রস্রাবে ইনফেকশন, ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব হওয়া এবং হাইড্রোনেফ্রোসিস কিংবা হাইড্রোইউরেটারের মাধ্যমে কিডনি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এছাড়া প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীর পা বাঁকা হয়ে যাওয়ার মতো শারীরিক বিকৃতি ঘটতে পারে।

প্রায় ২৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে চিয়ারি ম্যালফরমেশন দেখা দিতে পারে, যেখানে ব্রেন স্টেম নিচে নেমে গিয়ে হঠাৎ করেই শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্স এন্ড হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক নিউরোসার্জারী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুদিপ্ত কুমার মূখার্জী।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাশিয়ার আন্তর্জাতিক ভূগোল অলিম্পিয়াডে অংশ নিচ্ছে পাঁচ বাংলাদ

রাশিয়ার আন্তর্জাতিক ভূগোল অলিম্পিয়াডে অংশ নিচ্ছে পাঁচ বাংলাদ