নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শুক্রবার ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে হিন্দুস্তান টাইমস প্রকাশ করে যে, ভারতের ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার বা ডব্লিউআইআই-এর গবেষক দল ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মণিপুরের তামেংলং জেলার চিউলুয়ান অঞ্চলে এই পাখিগুলোর দেহে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন করেছিলেন।
সে সময় অপাপাং ও আলাং ছাড়াও আহু নামের আরও একটি আমুর বাজপাখির ওপরে এই নজরদারি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে সোমালিয়া অঞ্চলে পৌঁছানোর পর রহস্যজনকভাবে আহুর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিজ্ঞানীদের।
এদিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে চীন থেকে উড়ে আসা অপাপাং এবং আলাং নামক দুটি পাখিই নিরাপদে বৃহস্পতিবার মণিপুরের মাটিতে ফিরে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় ধরে এই পরিযায়ী পাখি দুটি তামেংলং জেলার স্থানীয় পাহাড়ি জনপদে অবস্থান করবে এবং নিজেদের ক্লান্তি দূর করবে।
এই বিশ্রাম পর্ব শেষ হওয়ার পর তারা পুনরায় আরেকটি দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর পথ পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিজেদের নতুন করে প্রস্তুত করে তুলবে।
আমুর বাজপাখির দীর্ঘ পরিযান প্রক্রিয়ায় উত্তর-পূর্ব ভারতের অঞ্চলগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বিরতিস্থল হিসেবে কাজ করে থাকে।
এই নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলোতে অবস্থানের সময় পাখিগুলো উইপোকা সহ নানা ধরনের ক্ষতিকর পোকামাকড় শিকার করে খেয়ে নিজেদের শরীরে পর্যাপ্ত চর্বি সঞ্চয় করে।
তাদের এই সঞ্চিত শারীরিক শক্তি পরবর্তীতে আরব সাগরের প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ জলরাশি সফলভাবে পাড়ি দিতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা জুগিয়ে থাকে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর