নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
পরিদর্শনের পর জামায়াতে ইসলামীর আমির প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করলেও এবং প্রয়োজনে আরও সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও, এরপর থেকে দলটির পক্ষ থেকে রাড্ডা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জামায়াত নেতাদের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে কোনো আপডেট তাদের কাছে আসেনি এবং তারা আর কোনো যোগাযোগ করেননি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন যে যোগাযোগ তারা করবেন নাকি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ করবে, কারণ তারা তো ঘটনাস্থলে গিয়েই ঘোষণা দিয়ে এসেছেন এবং কথা ছিল তারাই আসবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে যতদূর তার জানা আছে, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কমিটি বসে তাদের বিষয়টি জানাবে এবং এরপর তারা কমিটির হাতে অর্থ বা সহায়তা হস্তান্তর করবেন।
এদিকে রাড্ডা ক্লিনিকের মেরামতকাজ তদারকি করছেন রক্ষণাবেক্ষণ তত্ত্বাবধায়ক পিটার সরদার। তিনি জানান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নিজস্ব অর্থায়নে মেরামতকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তারা নিজেদের উদ্যোগে সীমানাপ্রাচীরের উচ্চতা বাড়ানো এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থায়ী করার মতো কিছু বাড়তি কাজ করছেন।
পিটার সরদার আরও জানান যে সরকারিভাবে সম্পন্ন হওয়া মেরামতের কিছু কাজে মানের অসংগতি রয়েছে যা পরবর্তীতে সংশোধন করতে হবে। মেরামতকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং সম্পূর্ণ কাজ শেষ হতে আরও প্রায় ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান।
১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই চিকিৎসাকেন্দ্রটির সামনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোগুলো পুরোপুরি মেরামত করার পাশাপাশি লুটপাট হওয়া চিকিৎসা সরঞ্জামের একটি বিকল্প ব্যবস্থা করা। স্থানীয় রোগী ও সেবাপ্রার্থীদের পক্ষ থেকে প্রচণ্ড চাপ থাকা সত্ত্বেও এবং সীমিত পরিসরে সেবা চালু থাকলেও ক্লিনিকে রোগীর উপস্থিতি কোনো অংশেই কমেনি।
রাড্ডা ক্লিনিকের ডেপুটি ইনচার্জ নূর মোহাম্মদ জানান, বর্তমানেও প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গড়ে প্রায় ২০০ জন রোগী চিকিৎসার জন্য আসছে।
নূর মোহাম্মদ যোগ করেন যে সব সেবা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না থাকা সত্ত্বেও পূর্বের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বরং বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ হামলা ও ভাঙচুরের অনভিপ্রেত ঘটনার সুবাদে অনেকেই নতুন করে এই ক্লিনিকটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। ক্লিনিকের সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অচিরেই যদি সব ধরনের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিকভাবে চালু করা সম্ভব হয়, তবে এখানে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ জন রোগী সেবা নিতে আসবে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর