ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন রোধে কেন নীরব আলেমসমাজ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 24, 2026 ইং
মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন রোধে কেন নীরব আলেমসমাজ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ভার্চুয়াল মাধ্যমের নানা আলোচনা পেরিয়ে বর্তমানে মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও ঘনঘন প্রকাশ পাচ্ছে মাদ্রাসার কোমলমতি শিশুদের ওপর নিপীড়নের নানা চিত্র। সেই প্রেক্ষাপটে মনযূরুল হকের এই নিবন্ধটি গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রথম আলো দৈনিকে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। সম্প্রতি মাদ্রাসার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিষয়গুলো পুনরায় ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ায়, পাঠকদের বিশেষ আগ্রহের কথা মাথায় রেখে লেখাটি পুনরায় ছাপানো হয়েছে।

পোশাকধারী কোনো এক শিক্ষক দুই হাতে বিশাল আকৃতির একটি শক্ত লাঠি নিয়ে আট কিংবা নয় বছর বয়সি একটি ছোট শিশুকে নির্মমভাবে প্রহার করছেন। হাত ক্লান্ত হয়ে পড়লে তিনি অবলীলায় শিশুটির শরীরে সজোরে লাথি মারতে থাকেন। এরপর ভুক্তভোগী শিশুটির মুখোমুখি বসে তার মুখমণ্ডল ও পেটের অংশে একের পর এক ঘুষি চালাতে থাকেন তিনি। একই বয়সের আরও বেশ কিছু শিশু শাড়িবদ্ধভাবে বসে চরম আতঙ্ক ও ভয়ের সঙ্গে শিক্ষক কর্তৃক পরিচালিত সেই বিভীষিকাময় নিষ্ঠুরতা প্রত্যক্ষ করছে। ইন্টারনেট জগতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সেই অমানবিক সহিংসতার দৃশ্যটি অসংখ্য মানুষ স্বচক্ষে দেখেছেন; লেখক নিজেও সেটি দেখেছেন।

যদিও এই ভয়াবহ দৃশ্য লেখকের কাছে একেবারেই অপরিচিত বা নতুন কিছু নয়। অতীতে গৌরনদীর একটি মাদ্রাসা ও মসজিদের ওপরের তলায় মুফতি হুজুর উভয় হাতে বাঁশের মোটা লাঠি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ শক্তি প্রয়োগে পেটাচ্ছিলেন, আর ছোট্ট শিশুরা ভয়ে কাতরাচ্ছিল এবং তাদের তীব্র আর্তচিৎকার শোনা যাচ্ছিল—সেই করুণ দৃশ্য এখনো লেখকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তৎকালীন সময়ে ছাত্রদের অপরাধ বলতে ছিল—ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন টেলিভিশন সেটে খেলা উপভোগ করতে যাওয়া। অথচ শিক্ষকের হাতের সেই লাঠিটি আদতে ছিল রান্নাঘরের বিশালাকার ডেগের গরম তরকারি নাড়ানোর বিশাল হাতা।

স্মৃতির পাতা থেকে মুছে যায় না হুজুরের সজোরে ছুড়ে মারা বেতের ডগা কীভাবে নেয়ামতের ঊরুর ভেতর গেঁথে গিয়েছিল এবং রক্তক্ষরণে ছেলেটির পায়জামা সম্পূর্ণ ভিজে গিয়েছিল। স্পষ্টভাবে মনে পড়ে বিশাল হলরুমের মতো এক হেফজখানার একপ্রান্ত থেকে শিক্ষক লাথি মারা শুরু করলে শিশুটি গড়াতে গড়াতে একদম অন্যপ্রান্তে গিয়ে পড়ত। কোনো কোনো ছাত্রের হাত কিংবা পায়ের সঙ্গে শিকল দিয়ে ভারী কাঠের টুকরা বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হতো—যেন তারা কোনোভাবেই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ছেড়ে পালাতে না পারে।

সেসব স্থানে শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো নির্যাতনে বিন্দুমাত্র মর্মাহত হতেন না; বরং বর্তমান সময়ের টিকটকের বিভিন্ন ভিডিওর মতো—যেখানে দেখা যায় শিক্ষক বেতের আগা দিয়ে শিশুর মুখে খোঁচা মারছেন এবং ভিডিও আপলোড করে ক্যাপশনে লিখছেন ‘বাচ্চাদের কান্না করাতে বেশ ভালোই লাগে’—ঠিক সেই রকমই তখনকার শিক্ষকেরাও ছাত্রদের প্রাপ্ত শাস্তির নানা মুখরোচক ঘটনা নিয়ে উপহাস ও টিপ্পনী করতেন। এমনকি অভিভাবকদের মনোভাবও ছিল আরও এক ধাপ এগিয়ে। তারা নিজ সন্তানকে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে দিয়ে শিক্ষককে বলে আসতেন, ‘হুজুর, গোশতটুকু আপনার, আর হাড্ডিগুলো শুধু আমার।’

শারীরিক শাস্তির গণ্ডি ছাড়িয়ে বর্তমানে যৌন নিপীড়ন

তবে শুধু শারীরিক নির্যাতন চালানোই যে মাদ্রাসার শিক্ষকদের একমাত্র অপরাধ, তা নয়; বরং সামাজিক মাধ্যমের বিচ্ছিন্ন আলোচনা ছাপিয়ে এখন মূলধারার গণমাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের ওপর ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের লোমহর্ষক কাহিনিগুলো সামনে আসতে শুরু করেছে। ধারণা করা হয়, সেই সময়কালে শিক্ষকদের হাতে নিপীড়নের শিকার হয়নি এমন কোনো শিক্ষার্থী হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর বর্তমান যুগে এসে মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রীদের ধর্ষণের মতো ঘটনাও প্রকাশ পাচ্ছে; এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষণের পর নির্মম হত্যাকাণ্ড কিংবা আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক অভিযোগও উঠে আসছে।

উদাহরণস্বরূপ গত ১৯ মে দেশজুড়ে রামিসা হত্যাকাণ্ডের জোরালো আলোচনার দিনেই বনশ্রীর একটি মাদ্রাসায় দশ বছর বয়সি শিশু আবদুল্লাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার পায়ুপথে স্পষ্ট যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গিয়েছিল। একইভাবে কুমিল্লার একটি মহিলা মাদ্রাসায় একের পর এক রহস্যজনক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে নানা ধরনের নির্যাতনের চিহ্ন বেরিয়ে এসেছে। এমনকি মাদ্রাসায় পাঠরত কোমলমতি শিশুর ছবি কিংবা ভিডিওচিত্র গোপনে রেকর্ড করে অত্যন্ত আপত্তিকর ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন স্বয়ং শিক্ষকেরা।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকা মাদ্রাসাভিত্তিক শিশু নিপীড়নের ঘটনাগুলোর সঙ্গে নানা ধরনের মারাত্মক অপরাধ যুক্ত হয়েছে: প্রথমত, শিশুকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা; দ্বিতীয়ত, ছেলেশিশুকে বলাৎকার করা; তৃতীয়ত, মেয়েশিশুকে ধর্ষণ করা; চতুর্থত, নিপীড়নের পর হত্যাকাণ্ড কিংবা আত্মহত্যার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা; পঞ্চমত, শিশু নির্যাতনের ভিডিও বা ছবি রেকর্ড করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া এবং ষষ্ঠত, শিশুর ছবি বা ভিডিও নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যসহ তা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা। এগুলোর প্রতিটিই দেশের প্রচলিত দণ্ডবিধি অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ এবং এর সর্বনিম্ন সাজা পাঁচ বছরের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়মুক্তি

আইনের কঠোর বিধান থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চিত্রের অবস্থা সম্পূর্ণ বিপরীত—যাকে বলা চলে ‘কাজির গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’। এই ভয়াবহতার সবচেয়ে চরম একটি উদাহরণ হলো টাঙ্গাইল সদর উপজেলার একটি মাদ্রাসায় নয় বছর বয়সি এক শিক্ষার্থীর যৌন নির্যাতনের ঘটনা। ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক শিশুদের জিন ও ভূতের ভয় দেখিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে হাত দিতেন এবং সেই অপকর্ম মুঠোফোনে ধারণ করার নির্দেশ দিতেন। অভিযুক্ত শিক্ষক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়ার মাত্র দুই মাস পরেই জামিনে মুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ নতুন নামে আরেকটি মাদ্রাসা চালু করেন; অবাক করার বিষয় হলো, সেটি আবার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের যথাযথ অনুমোদনের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছিল!

এই ধরনের অনিয়ম কীভাবে বাস্তবে রূপ নিল? দেশের শীর্ষ কওমি মাদ্রাসা বোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া’র প্রধান পরিচালক মাওলানা নদভীকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নেত্রনিউজকে জানান, ‘এমন ঘটনা ঘটতেও পারে যে নতুন রেজিস্ট্রেশনটি সম্পূর্ণ ভিন্ন নামে অন্য কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে করিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ এমনকি নিজের চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ‘আইনগতভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা বোর্ডের হাতে নেই।’ কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা কিংবা বোর্ডের পক্ষ থেকে উদ্যোগী হয়ে মামলা দায়ের করার ক্ষমতাও কি তাদের নেই? তারা কি আদৌ সেই দায়িত্ব পালন করেছেন?

এই ঘটনার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরে ওই কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন যে, গত তিন মাসের মধ্যে মাদ্রাসাকেন্দ্রিক আসা মোট ৫৭টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে প্রায় ৫২টিই সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্ত। যদিও তিনি এর পক্ষে কোনো ধরনের দালিলিক প্রমাণ বা সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করেননি এবং ঠিক কী ধরনের তদন্ত প্রক্রিয়া তারা পরিচালনা করেছেন, তা গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করার কোনো প্রয়োজনই মনে করেননি। একের পর এক শিশু নিপীড়ন, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বোর্ডের শীর্ষ ব্যক্তিদের প্রথম তাগিদ কেন নিজেদের সম্পূর্ণ ‘নিরাপরাধ’ প্রমাণ করার ভেতর সীমাবদ্ধ থাকে এবং কেন অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয় না? এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গেলেই স্পষ্ট হয় যে সমস্যাটি কেবল গুটিকয়েক মানসিক বিকৃত মানুষের নয়; বরং এটি একটি অত্যন্ত গভীর কাঠামোগত ব্যর্থতার ফল।

ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরি’র দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান ও তথ্যে দেখা যায়, শিশু নির্যাতনের সিংহভাগ ঘটনা মূলত ঘটে পারিবারিক গণ্ডির ভেতরে কিংবা পরিচিত পরিবেশের কোনো পরিসরে। মাদ্রাসার পাশাপাশি সাধারণ স্কুল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গৃহশিক্ষকদের মাধ্যমেও শত শত শিশু বিভিন্নভাবে নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। সুতরাং এই সংকটকে শুধুমাত্র ‘মাদ্রাসার সমস্যা’ হিসেবে সরলীকরণ করার কোনো সুযোগ নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কোনো দায়দায়িত্ব নেই। কারণ মূল প্রশ্নটি অপরাধের তুলনামূলক হার নিয়ে নয়; বরং মূল প্রশ্ন হলো—যেখানে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বোর্ডসমূহ কী ধরনের ভূমিকা পালন করছে।

অপরাধবিজ্ঞান ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

অপরাধবিজ্ঞানের শাস্ত্রে একটি অত্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত তত্ত্ব রয়েছে যা ‘রুটিন অ্যাকটিভিটি থিওরি’ নামে পরিচিত। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, যেকোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পেছনে মূলত তিনটি উপাদানের একসঙ্গে উপস্থিতি আবশ্যক—যথা একজন অপরাধপ্রবণতাসম্পন্ন ব্যক্তি, একজন সহজলভ্য শিকার এবং অপরাধ রোধে একজন সক্ষম তদারককারীর সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি।

আবাসিক হেফজখানা কিংবা মাদ্রাসাসমূহের প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এই তিনটি শর্তকে অস্বাভাবিক রকমের সহজ ও অনুকূল করে তোলে। কারণ, শিশুটি তার পরিবার ও স্বজনদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকে; সেখানে সার্বিক তদারকি ব্যবস্থা কেবল একজন বা বড়জোর দুজন শিক্ষকের হাতে সম্পূর্ণ কেন্দ্রীভূত থাকে; সেখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের স্বাধীন নজরদারি থাকে না এবং শিক্ষকের একচ্ছত্র ক্ষমতা ও কর্তৃত্বকে চিরকাল প্রশ্নাতীত বলে ধরে নেওয়া হয়।

এটি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বা সহজাত কোনো ত্রুটি নয়—পৃথিবীর যেকোনো ধরনের অবরুদ্ধ, তদারকিশূন্য ও একচ্ছত্র ক্ষমতার প্রতিষ্ঠানেই এই ধরনের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায় (অতীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এতিমখানা, বোর্ডিং স্কুল কিংবা ক্রীড়া একাডেমির কার্যক্রমেও একই ধরনের অপরাধের প্যাটার্ন দেখা গেছে)। তবে এই কাঠামোগত ঝুঁকি ও বিপদ সম্পর্কে পুরোপুরি অবহীত থাকার পরেও তা প্রশমন বা প্রতিরোধের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করাটাই মূল ও বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দায় তৈরি করে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দুর্গারূপে পরীমনির নজরকাড়া সাজ, ভিডিও ভাইরাল

দুর্গারূপে পরীমনির নজরকাড়া সাজ, ভিডিও ভাইরাল