ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার ও বিশ্ব শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ আশঙ্কা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 20, 2026 ইং
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার ও বিশ্ব শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ আশঙ্কা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতির পাশাপাশি এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিশ্বমঞ্চে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রাক্কলন অনুযায়ী, সারা দুনিয়ার প্রায় চল্লিশ শতাংশ কর্মসংস্থান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছাঁচে প্রভাবিত হতে চলেছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, সংশ্লিষ্ট পেশাগুলো হয় পরিবর্তিত হবে, নয়তো উন্নত রূপ লাভ করবে অথবা পুরোপুরি হারিয়ে যাবে। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোর ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকির মাত্রা ষাট শতাংশ পর্যন্ত ছুঁয়ে ফেলতে পারে। কায়িক শ্রমের পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর পুঁজির ক্রমবর্ধমান প্রয়োগ রাষ্ট্রগুলোর রাজস্ব সংগ্রহের পদ্ধতি এবং শিক্ষাক্রমের কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনতে বাধ্য করবে।

নতুন প্রজন্ম ও তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবন নিয়ে সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট থারমান শানমুগারাতনাম তীব্র আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। তাঁর পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে বর্তমানে প্রারম্ভিক স্তরের বা এন্ট্রি-লেভেলের কর্মসংস্থানের সুযোগ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, প্রযুক্তিটির সঠিক পরিচালনা নিশ্চিত করা না গেলে ধনী ও দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার ব্যবধান আরও প্রকট হয়ে উঠবে। তাই মানবজাতির কল্যাণেই এআই এমনভাবে প্রয়োগ করা উচিত যাতে তা নতুন ও উন্নত পেশা সৃষ্টির পথ উন্মুক্ত করে।

আইএমএফ ও সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্টের এমন আশঙ্কার সুরের বিপরীতে কিছুটা আশার বাণী শুনিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অজয় বঙ্গ। তিনি মনে করেন না যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হঠাৎ করেই তরুণদের প্রবেশিকা স্তরের চাকরিগুলো গ্রাস করে ফেলবে। তাঁর মতে, বৃহৎ মাপের এআই মডেলগুলোর মূল আঘাত প্রধানত উন্নত দেশগুলোর ওপর দিয়ে যাবে।

অজয় বঙ্গ আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বব্যাংক মূলত ক্ষুদ্র পরিসরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘স্মল এআই’ ব্যবহারের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করছে। এর জন্য অতিশয় শক্তিশালী কম্পিউটিং অবকাঠামো কিংবা প্রকাণ্ড ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের প্রয়োজন পড়ে না। বরং সাধারণ ও সুলভ প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে উন্নয়নশীল অঞ্চলের কৃষক, শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মদক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

প্রযুক্তির এই অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি কোনোভাবেই থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়। কর্মসংস্থানের প্রকৃতি পরিবর্তনের এই বাস্তবতায় নিজেদের উপযুক্ত ও দক্ষ করে তোলাটাই বর্তমান মানবসম্পদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
ওএমএস চাল-আটা বরাদ্দ কমানোয় খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের গভ

ওএমএস চাল-আটা বরাদ্দ কমানোয় খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের গভ