ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মঙ্গলের মতো চরম পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতাযুক্ত অণুজীব আবিষ্কার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 6, 2026 ইং
মঙ্গলের মতো চরম পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতাযুক্ত অণুজীব আবিষ্কার ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মঙ্গল গ্রহকে মানুষের বাসযোগ্য করার দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এবার পৃথিবীর চরম পরিবেশে বেঁচে থাকার ক্ষমতাসম্পন্ন এক বিশেষ অণুজীবের খোঁজ মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার গবেষক দল এই চাঞ্চল্যকর আবিষ্কারটি করেছেন, যা মহাকাশ বিজ্ঞানীদের লাল গ্রহের ভবিষ্যত বসতি গড়ার ভাবনায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

গবেষণার বিস্তারিত তথ্যে প্রকাশ পেয়েছে যে, মঙ্গল গ্রহের মাটির নিচের রুক্ষ ও চরম পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ওই মাইক্রোবটিকে সমুদ্রের লোনাজলের তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি লবণাক্ত তরলে দীর্ঘদিন ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল। এমনকি বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে প্রায় কয়েকটি মাস অতিবাহিত করার পরও বিস্ময়করভাবে অণুজীবটি শুধু জীবিতই থাকেনি, বরং অত্যন্ত সফলভাবে নিজের বৃদ্ধিও অব্যাহত রেখেছে।

এই ক্ষুদ্র জীবটি কেবল বেঁচে থাকার লড়াইয়েই জয়ী হয়নি, বরং নিজের বংশবিস্তার ও প্রজনন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সংগ্রহ করতে চারপাশের রাসায়নিক উপাদানগুলোকেই সফলভাবে ব্যবহার করেছে। যদিও গবেষণাগারের কৃত্রিম পরিবেশে মঙ্গল গ্রহের আসল আবহাওয়া ও তাপমাত্রা শতভাগ নিখুঁতভাবে হুবহু তৈরি করা সম্ভব হয়নি, তবুও এই বৈজ্ঞানিক সাফল্য ভবিষ্যতে গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব তৈরির সম্ভাবনাকে দারুণভাবে বেগবান করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বিখ্যাত 'অ্যাপ্লাইড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল মাইক্রোবায়োলজি' নামক গবেষণা সাময়িকীতে এই যুগান্তকারী ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া 'হালোফেরাক্স ভলকানিয়ি' নামের অণুজীবটি সাধারণত পৃথিবীর মৃতসাগর কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের উটার গ্রেট সল্ট লেকের মতো অত্যন্ত প্রতিকূল এবং লবণাক্ত এলাকায় প্রাকৃতিকভাবেই পাওয়া যায়।

যেহেতু মঙ্গল গ্রহে কোনো জীবের পক্ষেই বেঁচে থাকা অত্যন্ত দুরূহ একটি ব্যাপার, তাই গবেষক দলটি অত্যন্ত উচ্চমাত্রার লবণাক্ত, অক্সিজেনবর্জিত এবং কার্বন ডাই–অক্সাইডে ভরপুর পরিবেশে একটানা ১৮০ দিন ধরে এই হালোফেরাক্স ভলকানিয়ির নমুনাগুলো অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করেছিলেন।

পরবর্তীতে ওই কৃত্রিম পরিবেশে মঙ্গল গ্রহে স্বাভাবিকভাবে প্রাপ্ত নাইট্রেট কিংবা পারক্লোরেটের মতো বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের মিশ্রণ প্রয়োগ করা হয়। অত্যন্ত অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই অণুজীবটি ওইসব কঠিন রাসায়নিকগুলোকে নিজের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং নিজেদের বংশবৃদ্ধি ঘটিয়ে এই চরম বৈরী পরিবেশেও নিজেদের টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এই পুরো গবেষণার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অ্যাডাম রবিনসন সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, অতীতে সুদূর অতীতে যদি কখনো মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থেকে থাকে, তবে পরিবেশের ধারাবাহিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই গ্রহের কিছু আদি জীবও ক্রমবর্ধমান প্রতিকূল পরিস্থিতি সহ্য করে টিকে থাকার জাদুকরী ক্ষমতা অর্জন করে থাকতে পারে।

যদিও মঙ্গল গ্রহের ভূগর্ভের গভীরে তরল পানির কোনো রকম অস্তিত্ব থাকার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা কোনো ধরনের সরাসরি বা অকাট্য প্রমাণ পাননি, তবুও এই যুগান্তকারী গবেষণাটি লাল গ্রহে মানবজাতি ও প্রাণের ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানের পথকে অনেক বেশি প্রশস্ত ও সহজ করবে বলে জোরালো ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
কাউখালীতে দোকানের ভেতর থেকে এক টেইলার্স ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মর

কাউখালীতে দোকানের ভেতর থেকে এক টেইলার্স ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মর