নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিশেষজ্ঞদের সূত্রে জানা যায়, সমাজে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে মূত্রত্যাগের বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচক ধারণা বা দৃষ্টিভঙ্গি প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, শারীরিকভাবে সুস্থ পুরুষদের ক্ষেত্রে এই দুই ভিন্ন ভঙ্গির মাঝে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য ফারাক বা বৈসাদৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়নি।
২০২৩ সালে 'দ্য কনভারসেশন' মাধ্যমে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে মূত্রথলির ভেতরের শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান মোরো ও শার্লট ফেলপস এই তথ্য তুলে ধরেন। তাঁরা জানান যে, দাঁড়িয়ে বা বসে মূত্রত্যাগের সময়কাল, প্রবাহের গতি এবং মূত্রথলি কতটা খালি হচ্ছে—এই দিকগুলো প্রায় একই রকম থাকে।
যাঁদের প্রস্রাব সংক্রান্ত কোনো রকম শারীরিক জটিলতা বা সমস্যা নেই, তাঁরা সম্পূর্ণ নিজেদের ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো একটি অবস্থানে প্রস্রাব করতেই পারেন। তবে একটি বিষয় বিশেষভাবে মাথায় রাখতে হবে যে, দাঁড়িয়ে মূত্রত্যাগ করার সময় চারপাশের পরিচ্ছন্নতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে, এর বিপরীত চিত্রও কিছুটা রয়েছে, যেখানে ২০২০ সালে প্রায় ২০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ওপর একটি বিশেষ জরিপ পরিচালনা করা হয়েছিল। ওই জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, যেসব পুরুষ সাধারণত বসে মূত্রত্যাগ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাঁদের মধ্যে মূত্রনালীর নানা উপসর্গের কথা উল্লেখ করার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি ছিল।
তবে এই জরিপের ফলাফলের পর গবেষকেরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ঠিক বসে প্রস্রাব করার অভ্যাস থাকার কারণেই যে এই ধরনের শারীরিক সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, এমন কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং উল্টো ব্যাপারটি হতে পারে, অর্থাৎ আগে থেকেই মূত্রত্যাগে সমস্যা থাকায় কোনো কোনো ব্যক্তি সচেতনভাবে বসে প্রস্রাব করে থাকতে পারেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর