নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দিনের শুরুটা এক গ্লাস তাজা কমলার রস দিয়ে করতে পারলে পুষ্টির দিক থেকে শরীর দারুণভাবে উপকৃত হতে পারে। এই পানীয়টিতে রয়েছে শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, সেইসঙ্গে ফোলেট এবং পটাশিয়ামের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান।
খাদ্যতালিকার এই উপাদানে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম থাকে এবং এটি প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। নিয়মিত এটি গ্রহণ করলে ক্যানসার, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো মারাত্মক সব জটিল রোগ থেকে শরীর সুরক্ষা পেতে পারে।
শুধু তা-ই নয়, এটি কিডনিতে পাথর জমার আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে এবং একই সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে সাহায্য করে।
তবে বাজারে যেসব পানীয় পাওয়া যায়, সেগুলোতে অতিরিক্ত চিনি মেশানো থাকে অথবা জুস ব্লেন্ড করার পদ্ধতি ক্ষতিকর হতে পারে, যা শরীরের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি ডেকে আনে। তাই ভালো স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য সব সময় শতভাগ খাঁটি এবং প্রিজারভেটিভ বা সংরক্ষণকারী উপাদানমুক্ত জুস বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ওজন কমানোর নানা ধরনের ডায়েটের প্রচার থাকলেও, প্রতিদিন আপনি ঠিক কতটুকু ক্যালোরি গ্রহণ করছেন তার ওপর কঠোর নজরদারি না রাখলে ওজন নিয়ন্ত্রণের পুরো হিসাব গুলিয়ে যেতে পারে।
যেহেতু কমলার রসে ক্যালোরির মাত্রা কম থাকে এবং এটি যে শরীরের স্থূলতা বাড়ায় না, তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে, তাই শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর ডায়েটচার্টে এটি রাখা একটি চমৎকার সিদ্ধান্ত।
কম ক্যালোরিযুক্ত খাবারের পাশাপাশি যদি এই ফলটির রস নিয়মিত পান করা যায়, তবে ওজন হ্রাসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব বলে প্রমাণিত হয়েছে।
তাই খাদ্য তালিকায় এটি যুক্ত করার পাশাপাশি আপনি প্রতিদিন ঠিক কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন, সে বিষয়টি নিয়েও সতর্ক দৃষ্টি রাখা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
এই পানীয়টিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিনয়েড নামক উপাদান বিদ্যমান থাকে, যা মূলত মানবদেহে ভিটামিন এ-এর সঠিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে বিশেষভাবে অবদান রাখে।
নিয়মিত এই তাজা রস পান করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সুদৃঢ় থাকে এবং এটি চোখের ভেতরের কোষগুলোকে যেকোনো ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
আমাদের ত্বকে ক্যারোটিনয়েডের উপস্থিতি এই ইঙ্গিত দেয় যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো শরীরের ভেতর অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাজা জুস রাখলে শরীরে এই ক্যারোটিনয়েডের মাত্রা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, যা ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ও নানা রকম পরিবেশগত ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।
অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে এই পানীয়টি আপনার নিত্যদিনের ব্যবহারের সানস্ক্রিনের কোনো বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে, বরং দুটি একসঙ্গে ব্যবহার করলে সেরা ফল মিলবে।
কমলা এবং আনারস একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা বিশেষ এই জুস মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি হজমশক্তি উন্নত করতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
আনারসের ভেতর থাকা ব্রোমেলেইন নামক এনজাইম খাবার হজম করতে সাহায্য করে এবং কমলার রস শরীরের রক্তের ভেতর ইউরিক এসিডের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে।
এই সুস্বাদু পানীয় প্রস্তুত করতে হলে প্রথমে তাজা কমলা ও আনারস ভালোভাবে ধুয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে এবং জুসার ব্যবহার করে রস বের করতে হবে।
এরপর কমলাগুলো ভালো করে চিপে বা ব্লেন্ডারে ঘুরিয়ে রস আলাদা করে নিতে হবে এবং একটি বড় জারে উভয় রস মিশিয়ে সামান্য চিনি বা মিষ্টি যোগ করতে হবে।
সবশেষে মিশ্রণটি ভালোভাবে নেড়ে এর মধ্যে বরফ কুচি এবং কিছু পুদিনা পাতা মিশিয়ে খুব ঠান্ডা ঠান্ডা অবস্থায় এটি পরিবেশন করতে হবে।
গাজর ও কমলার মিশ্রণে তৈরি এই বিশেষ জুস ভিটামিন সি এবং বিটা-ক্যারোটিনে পরিপূর্ণ থাকে, যা শরীরের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে দারুণভাবে কাজ করে।
বিটা-ক্যারোটিন মানবদেহে প্রবেশ করার পর ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার পাশাপাশি চোখের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে।
এছাড়াও এই পানীয়ে প্রতি সার্ভিংয়ে মাত্র ৯৩ ক্যালোরি থাকে, যা কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই জুস তৈরির প্রক্রিয়া হিসেবে প্রথমে গাজর ও কমলা ভালোভাবে ধুয়ে কেটে জুসার বা ব্লেন্ডারে দিয়ে এর থেকে রস বের করে নিতে হবে।
যদি এর মিষ্টির পরিমাণ একটু বাড়াতে চান, তবে এক্ষেত্রে সামান্য মধু নিজের পছন্দ অনুযায়ী মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে, যা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।
প্রস্তুত করার পর বরফ কুচি দিয়ে এটি ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করা যায় এবং অতিরিক্ত অংশ আইস ট্রেতে জমিয়ে রেখে প্রায় এক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর