নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে অতীতে রিয়াল মাদ্রিদের কোচদের ছাঁটাই হওয়ার বিভিন্ন দৃষ্টান্ত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে কাতালান সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো। রিয়ালের সাবেক কোচ জাবি আলোনসোর পরিণতি টেনে তারা জানিয়েছে, গত মৌসুমে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে বার্সার কাছে পরাজিত হওয়ার মাত্র কয়েক দিন বাদেই মাদ্রিদের ক্লাবটি তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে ফেলেছিল। বার্সেলোনার বিপক্ষে পরাজয়ের পর রিয়াল কোচের চাকরি হারানোর সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবেই আলোনসোর নাম সামনে আনা হয়েছে।
এর আগে ২০১৮ সালেও এল ক্লাসিকোর হার জুলেন লোপেতেগির বিদায়ের পেছনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছিল। বার্সার বিপক্ষে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে পর্যুদস্ত হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে লোপেতেগির দল আতলেতিকো মাদ্রিদ, আলাভেস এবং লেভান্তের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও মূল্যবান পয়েন্ট হারিয়েছিল। ওই বছরের অক্টোবর মাসে ধারাবাহিক ব্যর্থতার তীব্র চাপে পড়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাঁকে বরখাস্ত করতে বাধ্য হয়।
জিনেদিন জিদানের উত্তরসূরি হিসেবে রিয়ালের ডাগআউটে আসা লোপেতেগি অবশ্য এর আগে রাশিয়া বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই স্পেনের জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব থেকেও বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। নানাবিধ সংকটের ভেতর দিয়ে যাওয়ার পর তিনি রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিলেও ক্লাবকে কোনো প্রত্যাশিত সাফল্য উপহার দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।
এদিকে ২০১৫ সালে রাফায়েল বেনিতেজের কোচিংয়ে নিজেদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বার্সেলোনার কাছে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে বসেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে সেই ভরাডুবি বেনিতেজের ওপর কোচের পদের চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে দল টানা সময় ধরে খারাপ খেলার মধ্য দিয়ে যাওয়ার ফলে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।
অন্যদিকে বের্ন্ড শুস্টার অবশ্য বার্সার বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওই ম্যাচে রিয়ালের জয়ের কোনো সম্ভাবনাই নেই বলে তিনি প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া হুয়ান্দে রামোসও শেষ পর্যন্ত কাতালানদের বিপক্ষে পরাজয় এড়াতে পারেননি এবং পরবর্তীতে নিজেদের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ৬-২ গোলের ব্যবধানে বিধ্বস্ত হতে হয়েছিল দলকে।
এমন নানামুখী অতীতের ইতিহাস সামনে এনেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, এবার কি তবে একই পরিণতি বরণ করে নিতে চলেছেন মরিনিও? মুন্দো দেপোর্তিভোর এই প্রকাশিত প্রতিবেদনে কার্লো আনচেলত্তির প্রসঙ্গটিও বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
সংবাদমাধ্যমটির দাবি অনুযায়ী, বার্সেলোনার বিপক্ষে কোপা দেল রের ফাইনালে হারের স্বাদ পাওয়ার বিষয়টি আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের পরিকল্পনাতেও বেশ বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। বার্সার বিপক্ষে সেই হারের পর আনচেলত্তির কোচিং ভবিষ্যৎ নিয়েই নানা হিসাব-নিকাশ শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তিনি ব্রাজিলের জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর