ঢাকা | বঙ্গাব্দ

৫০তম বিসিএসে ‘রিপিট ক্যাডার’ সংকট দূর করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে পিএসসি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 20, 2026 ইং
৫০তম বিসিএসে ‘রিপিট ক্যাডার’ সংকট দূর করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে পিএসসি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার নিয়োগ কার্যক্রমে একই প্রার্থী বারবার একই পদে সুপারিশ পাওয়ার জটিলতা নিরসনে নতুন কৌশল হাতে নিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধানের নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর এই সমস্যা সমাধানে বিশেষ নির্দেশনা ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে আসছে ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে এই পুনরাবৃত্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করা হবে বলে জানা গেছে।

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ‘রিপিট ক্যাডার’ বলতে সেই সব পরীক্ষার্থীকে বোঝানো হয়, যারা পূর্ববর্তী কোনো বিসিএসে কোনো নির্দিষ্ট পদে সুপারিশপ্রাপ্ত কিংবা চূড়ান্তভাবে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও পরবর্তী পরীক্ষায় আবার একই ক্যাডারে নতুন করে সুপারিশ লাভ করেন। কিন্তু এই সফল প্রার্থীরা সচরাচর নতুন করে সেই পদে যোগ দেন না, যার ফলে সরকারি সেবার মূল্যবান পদটি শূন্য থেকে যায়। এর ফলে চূড়ান্ত ক্ষতির মুখে পড়েন সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীরা এবং এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রতিবছর অসংখ্য যোগ্য ও মেধাবী তরুণ কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন।

দীর্ঘদিন ধরে এই অসংগতি চলে এলেও ৪৩তম এবং বিশেষ করে ৪৪তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। কমিশনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৪৪তম পরীক্ষায় ১ হাজার ৭১০টি শূন্য পদের বিপরীতে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় চার শ জনই ছিলেন এই ক্যাডার পুনরাবৃত্তির শিকার। অর্থাৎ তাঁরা আগে থেকেই সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন এবং অনেকে হুবহু একই পদে পুনরায় সুপারিশ পান, যা পিএসসি ও জনপ্রশাসন উভয়কেই প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলে।

এই ঘটনার পর থেকেই অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী শূন্য পদগুলোতে নতুন প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার জোরালো দাবি ওঠে। এই জটিলতা রোধ করতে ইতিপূর্বে নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করা হলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। অনেক সময় দুই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা তথ্য গোপন করে একই পদের অধিকার ধরে রাখায় এই সমস্যা জিইয়ে থাকে, যা নিরসনে এবার বাস্তবমুখী পদক্ষেপের দিকে হাঁটছে কমিশন।

ইতিমধ্যে ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে এবং সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আগামী ১ নভেম্বর নতুন চাকরিতে যোগদানের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। প্রার্থীরা চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরেই কেবল স্পষ্ট হবে যে বাস্তবে কতজন যোগ দিলেন এবং প্রকৃত অর্থে কতগুলো পদ খালি রয়ে গেল। কমিশন সূত্রে প্রকাশ, ওই তারিখের পর যোগদানের সুনির্দিষ্ট হিসাব তদারকি করা হবে এবং খালি থাকা পদের সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশ সাজানো হবে।

কমিশনের এই বাস্তবভিত্তিক কর্মপন্থাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা। পরীক্ষার্থী মিজানুর রহমান জানান, পুনরাবৃত্তির এই নিয়মের কারণে সাধারণ প্রার্থীরা মারাত্মক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এবং তথ্য গোপন করে বারবার পরীক্ষা দিয়ে পদ দখল করে রাখলেও শেষ পর্যন্ত তা ফাঁকাই থাকছে। ৪৫তম বিসিএসের যোগদানের সঠিক পরিসংখ্যান যাচাই করে পিএসসি যদি পরবর্তী পরীক্ষায় সুপারিশ চূড়ান্ত করে, তবে এই শূন্যতার সমস্যা বহুগুণ কমে যাবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান জানান, এই জটিলতার কারণে প্রতিবছর বহু যোগ্য প্রার্থী তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর এই অসঙ্গতি দূর করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। নির্ধারিত দিনে যোগদানের তথ্য পর্যালোচনা করে ৫০তম বিসিএসের ফলাফলের সঙ্গে তা সংযুক্ত করা হবে, যাতে কোনো পদ ফাঁকা না থাকে এবং যোগ্য প্রার্থীরা তাদের অধিকার ফিরে পান।

৪৪তম বিসিএসে এই জটিলতা দৃশ্যমান হওয়ার পর কমিশন নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয় এবং এসংক্রান্ত প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। প্রস্তাবিত শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে, চূড়ান্ত ফলাফল বা সুপারিশ পাঠানোর সময় যদি কমিশন নিশ্চিত হয় যে কোনো প্রার্থী একই পদে পুনরায় মনোনীত হয়েছেন এবং তিনি যোগদানে অনিচ্ছুক, তবে তাঁকে পুনরায় সুপারিশ করা থেকে বিরত থাকা যাবে। একই সঙ্গে ওই শূন্য পদগুলোতে পরবর্তী মেধাক্রম অনুসরণ করে সম্পূরক ফলাফল প্রকাশের সুযোগ রাখারও বিধান রাখা হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মোদি-জিনপিং বৈঠকে সীমান্ত, বাণিজ্যসহ যেসব বিষয়ে আলোচনা

মোদি-জিনপিং বৈঠকে সীমান্ত, বাণিজ্যসহ যেসব বিষয়ে আলোচনা