ঢাকা | বঙ্গাব্দ

টাইগার শ্রফ হত্যাচেষ্টায় গ্রেফতার অঙ্কিত, আটজনে পৌঁছাল মোট ধৃতের সংখ্যা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 22, 2026 ইং
টাইগার শ্রফ হত্যাচেষ্টায় গ্রেফতার অঙ্কিত, আটজনে পৌঁছাল মোট ধৃতের সংখ্যা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বলিউড দুনিয়ার পরিচিত মুখ টাইগার শ্রফের ব্যবহৃত গাড়িতে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর অপরাধে আরও এক ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করেছে। গত বুধবার সোনিপত জেলার বড়োদা জনপদ থেকে অঙ্কিত নামের ওই ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। এই নিয়ে পুরো কান্ডে মোট আটজন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হলো। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, এই গভীর চক্রান্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন আঠারো বছর বয়সী অঙ্কিত ওরফে রাজেশ খাটক। তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডের মাধ্যমে সড়ক বা আকাশপথে মুম্বাইয়ে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রকাশ পেয়েছে যে, কুখ্যাত কুণালের সুনির্দিষ্ট নির্দেশেই রাধা ও ববিতা নামের দুই নারী ট্রেনযোগে একটি পিস্তল ও বিশ রাউন্ড গুলি মুম্বাই শহরে বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন।

গত রোববারের সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ মুম্বাইয়ের জুহু অঞ্চলে টাইগার শ্রফের বহনকারী মোটরগাড়িটিকে উদ্দেশ্য করে পাঁচটি বুলেট ছোড়ে তিনজন আক্রমণকারী। একটি দুই চাকার যানে চড়ে এসে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। এর পরের দিনই রাজস্থানের কোটা জংশন এলাকা থেকে তিন সন্দেহভাজনকে পাকড়াও করে পুলিশ। গত বুধবার ভোর চারটার দিকে তাঁদের কড়া নিরাপত্তায় মুম্বাইয়ে নিয়ে আসা হয় এবং ওই দিনই আদালতের এজলাসে তাঁদের সোপর্দ করার পরিকল্পনা ছিল।

এই ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে মুম্বাই মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধদমন শাখা। ভারতীয় বিচার সংহিতার ১০৯(১) ও ৩(৫) ধারায় হত্যাচেষ্টা এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। কোটা থেকে আটক হওয়া তিন ব্যক্তির নাম যথাক্রমে ফুল সিং, রেহান এবং ঋত্বিক। এর মধ্যে প্রথম দুজনেই হরিয়ানার সোনিপত অঞ্চলের বাসিন্দা এবং শেষোক্ত জনের আবাসস্থল বিহারের বেগুসরাই জেলায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোরালো অভিযোগ, এই ত্রয়ী মিলেয়েই অভিনেতার গাড়িতে সরাসরি গুলি চালিয়েছিল। সম্পূর্ণ এই নাশকতার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিদেশ থেকে কার্যক্রম চালানো গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগী অনিল পণ্ডিতের নাম উঠে এসেছে।

এর আগে হরিয়ান ও উত্তর প্রদেশ থেকে আরও চারজনকে বিশেষভাবে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশের বিশেষ উইং। ধৃত ব্যক্তিরা হলেন সোনিপতের কুড়াল ও সুমিত এবং উত্তর প্রদেশের রাধা ও ববিতা। পরবর্তীতে তাঁদের মুম্বাই পুলিশের হাতে অর্পণ করা হয়। গোয়েন্দাদের প্রবল সন্দেহ, এই চারজনই লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের অস্ত্র চোরাচালান নেটওয়ার্কের সক্রিয় অংশীদার। তদন্তে আরও প্রকাশ পায় যে, কুণালের সঙ্গে গ্যাংস্টার অনিল পণ্ডিতের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। মার্কিন মুলুকে অবস্থান করে এই পণ্ডিত নিজের অপরাধজগৎ পরিচালনা করেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক নথি অনুযায়ী, অন্য একটি অপরাধের মামলায় সম্প্রতি জামিন পেয়েছিলেন উনিশ বছরের তরুণ কুণাল। সেই সুবাদে হরিয়ানার হরসানা জনপদের এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ইন্টারনেটভিত্তিক গোপনীয় একটি অ্যাপের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান চলত। গোয়েন্দাদের ভাষ্যমতে, ওই বিদেশি অপরাধীর কথা মতো সুমিতকে সঙ্গে নিয়ে অমৃতসর শহর থেকে একটি পিস্তল এবং বিশটি তাজা কার্তুজ সংগ্রহ করেছিলেন কুণাল।

গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে প্রবল সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে যে, সংগৃহীত অবৈধ অস্ত্র নিরাপদে মুম্বাইয়ে পৌঁছে দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল রাধা ও বমিতার ওপর। গত পনেরো অক্টোবর তাঁরা দুজন রেলগাড়িতে চড়ে বাণিজ্যনগরীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, কুড়াল নিজে তাঁদের নয়াদিল্লি স্টেশনে পৌঁছে দিয়ে আসেন এবং সেখান থেকে তাঁদের মুম্বাইগামী গাড়িতে তুলে দেন। মূল অস্ত্রটি রাধার ব্যক্তিগত ব্যাগের ভেতরে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পথিমধ্যে চলাকালীনও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমেই তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছিলেন কুড়াল এবং পুরো অভিযানের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন।

গত সতেরো অক্টোবর মুম্বাইয়ে পদার্পণ করে দাদর রেলস্টেশনে এসে থামেন ওই দুই নারী এবং পরবর্তীতে একটি সুনির্দিষ্ট হোটেলে আশ্রয় নেন। পুলিশি সূত্রে দাবি করা হয়, এর কিছু সময় পর এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর হোটেলের কাছাকাছি এসে রাধার কাছ থেকে সেই অস্ত্রভর্তি ব্যাগটি বুঝে নেয়। আর ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ আঠারো অক্টোবর জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়িতে ওই হামলা চালানো হয়। সৌভাগ্যবশত অভিনেতা অক্ষত থাকলেও তাঁর চালক ফিরদৌস এবং নিকটস্থ এক রিকশাচালক বুলেটের আঘাতে গুরুতর জখম হন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে তাঁরা বলিউড ইন্ডাস্ট্রির একাধিক তারকার বাসভবনের আশেপাশে দীর্ঘদিন ধরে ওত পেতে থাকতেন এবং গোপনে নজরদারি চালাতেন। এই কাজের সুবিধার্থে অটোচালকদের প্রায় এক হাজার টাকার মতো বকশিশ দিয়ে তারকাদের বাড়ির অলিগলিতে ঘুরতেন তাঁরা। কখনো কখনো ইন্টারনেটের সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুগুলোর নির্দিষ্ট ঠিকানা উদ্ধার করতেন এবং সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে বাড়িগুলোর ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতেন।

তদন্তকারী দল এখন অপরাধীদের যাতায়াতের পথ, তাদের সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য এবং সম্ভাব্য আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। এই মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা ভারতীয় বিচার সংহিতার অত্যন্ত কঠোর ১১১ নম্বর ধারাটি যুক্ত করেছে, যা মূলত সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

গোয়েন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, গুলিবর্ষণের ঘটনার অব্যবহিত পরেই গত রবিবার অনিল পণ্ডিত যোগাযোগ করেন কুণালের সঙ্গে। তিনি জানান যে আক্রমণকারীরা ইতোমধ্যে মুম্বাইয়ে আটকা পড়েছে এবং তাদের যেকোনো মূল্যে নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে কুড়ালকে নির্দেশ দেন। এরপর রাধা ও ববিতা দাদর-হরিদ্বার এক্সপ্রেস ট্রেনে চেপে দিল্লির দিকে রওনা হন। গত কুড়ি তারিখে নয়াদিল্লি স্টেশন থেকে তাঁদের পাকড়াও করা হয় এবং একই দিনে সোনিপত থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কুড়াল ও সুমিতকে।

ঘটনার ঠিক পরের দিন অর্থাৎ উনিশে অক্টোবর কোটা জংশন থেকে তিন হামলাকারীকে নিজেদের জালে আনে পুলিশ। ট্রেনযোগে জয়পুর পালিয়ে যাওয়ার ফন্দি এঁটেছিল তারা এবং সেখান থেকে সড়কপথে দিল্লি হয়ে নেপাল সীমান্ত পার হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পুলিশি জেরায় জানা যায়, ধৃতদের মধ্যে রেহানের সঙ্গে টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত অনিল পণ্ডিত। প্রথমে নিজের গ্রামবাসী ফুল সিং এবং পরে মুম্বাইয়ের বাইকচালক ঋত্বিককে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে টেনে আনে রেহান।

মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা এখন এই সমগ্র চক্রের সঙ্গে ধৃতদের সম্পর্কের পাশাপাশি হামলা চালানোর আসল অভীষ্ট লক্ষ্য কী ছিল তা তলিয়ে দেখছে। পুলিশের দৃঢ় দাবি, আক্রমণকারীদের মূল নিশানা ছিলেন শীর্ষ তারকা সালমান খান এবং তাঁর বাসভবনের চারপাশেও তারা ব্যাপক নজরদারি চালিয়েছিল। তবে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখে তারা নিজেদের পরিকল্পনা বদলে টাইগার শ্রফকে আক্রমণ করে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পরই সালমান খানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাইরে ভারী অস্ত্রধারী কমান্ডো মোতায়েন করা হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
তসলিমা নাসরিনের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে যা বললেন প্রধানমন্ত্রীর ত

তসলিমা নাসরিনের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে যা বললেন প্রধানমন্ত্রীর ত