নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মার্কিন সামরিক হুমকির তাৎক্ষণিক এবং জোরালো এক পাল্টা জবাব হিসেবে নিজেদের ভাণ্ডারে 'ফাদার অব অল বোম্বস' বা 'সকল বোমার পিতা' নামের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বোমা যুক্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরান।
ইরানের মর্যাদাপূর্ণ ইয়ুথ জার্নালিস্টস ক্লাব নিউজ এজেন্সিতে সম্প্রতি সম্প্রচারিত এক বিশেষ বক্তব্যে দেশটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হোসেইন মোহেবি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করেছেন।
নিজের ওই বক্তব্যে হোসেইন মোহেবি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, বর্তমানে তাদের এই বিধ্বংসী অস্ত্রটি প্রকাশ্যে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া একদম শেষ পর্যায়ে অবস্থান করছে এবং এটি উন্মোচনের কাজ চূড়ান্ত ধাপ পেরিয়ে গেছে।
প্রতিপক্ষ বা শত্রুবাহিনীগুলোর জন্য তাদের এই নতুন সামরিক সংযোজনটি একটি সম্পূর্ণ অভিনব এবং বড় ধরণের চমক হিসেবে হাজির হবে বলেও অত্যন্ত জোরালোভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এই ইরানি কর্মকর্তা।
তবে অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে চলা এই বিশেষ সামরিক অস্ত্রটির প্রযুক্তিগত গঠন, কার্যকারিতা কিংবা অন্যান্য কোনো সুনির্দিষ্ট ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণী গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করতে তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
ইরানের পক্ষ থেকে এমন একটি ভয়ঙ্কর ধ্বংসাত্মক অস্ত্র তৈরির এই অভাবনীয় ঘোষণাটি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার পারদ চড়াচ্ছে।
এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অত্যন্ত সংবেদনশীল পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর প্রকাশ্য হুমকি প্রদান করেছিলেন।
ওই হুমকির অংশ হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন ভাণ্ডারে থাকা জিবিইউ-৪৩ অবলিক বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বোমাটি ব্যবহারের জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা বিশ্বজুড়ে 'মাদার অব অল বোম্বস' বা 'সকল বোমার জননী' হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত ভারী এই অ-পারমাণবিক বোমার মোট ওজন প্রায় নয় হাজার আটশত কেজি বা প্রায় একুশ হাজার ছয়শত পাউন্ডের কাছাকাছি বলে জানা গেছে।
বিশাল আকৃতির এই মার্কিন অস্ত্রটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে থাকা সর্ববৃহৎ এবং সর্বাধিক শক্তিশালী প্রচলিত অ-পারমাণবিক বোমাগুলোর একটি হিসেবে নিয়মিত বিবেচিত হয়ে থাকে।
এর আগে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসের দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৎকালীন প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানের মাটিতে আইএস বা দায়েশ জঙ্গিগোষ্ঠীর একটি সুদৃঢ় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কের ওপর এই শক্তিশালী বোমাটি প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছিল।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর