নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মো. শরীফ নামের এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে গোয়েন্দা সংস্থার দুজন সদস্যসহ মোট ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা বলে সোহেল নামের এক ব্যক্তি ঘর থেকে বাইরে বের হন। এর কিছুক্ষণ পর মামলার বাকি অভিযুক্তরা ওই ঘরে প্রবেশ করে অতর্কিতভাবে শরীফের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতে শুরু করেন।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। তখন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিজের কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা তাঁদের হাতে তুলে দেন।
কিন্তু ওই পরিমাণ অর্থেও ক্ষান্ত না হয়ে অপহরণকারীরা তাঁকে আবারও বেধড়ক মারধর করেন।
পরে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে টাকা জোগাড়ের চেষ্টা চালান শরীফ। এই পুরো সময়জুড়ে তাঁকে একটি নির্দিষ্ট বাসায় আটকে রাখা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারের বিস্তারিত বর্ণনায় আরও প্রকাশ পায়, ওই দিন ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযুক্তরা শরীফকে ঘর থেকে নিচে নামিয়ে এনে একটি টয়োটা ব্র্যান্ডের প্রাইভেটকারে তুলে নেন। পরবর্তীতে গাড়িটি রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে দাঁড় করিয়ে অপহরণকারীরা চা পান করার উদ্দেশ্যে বাইরে যান।
ঠিক সেই মুহূর্তেই ভুক্তভোগী শরীফ রাস্তার পাশে একটি পুলিশের গাড়ি দেখতে পেয়ে দ্রুত দৌড়ে গিয়ে তাদের কাছে জীবন রক্ষার্থে সাহায্য প্রার্থনা করেন। উল্লেখ্য, ওই গাড়িটি ছিল শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের একটি নিয়মিত টহল দল।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, শিশু হাসপাতালের নিকটবর্তী এলাকায় তাদের পুলিশের একটি চেকপোস্ট সক্রিয় ছিল। সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই ব্যবসায়ী যখন তাদের কাছে সহযোগিতা চান, তখন পুলিশ সদস্যরা সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করে এবং ব্যবহৃত গাড়িটিসহ তাদের মোহাম্মদপুর থানার নিকট হস্তান্তর করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, আটকের পর অভিযুক্তদের মধ্যে থাকা গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্যের পরিচয় নিয়ে কিছুটা জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সেনাসদরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সরাসরি থানায় উপস্থিত হয়ে পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করেন।
সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ওই দুই সদস্যসহ সবাইকে এই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এই পুরো ঘটনার আইনগত দিক সম্পর্কে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম গণমাধ্যমকে জানান, ভুক্তভোগীর দেওয়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর