নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজধানীর পূর্ব নাখালপাড়ার একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে ৩২ বছর বয়সি এক নারীর মরদেহ পুলিশ কর্তৃক উদ্ধার করার খবর পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হেল্পলাইন নম্বর ৯৯৯-এ একটি জরুরি ফোনকল পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই মৃতদেহটি জব্দ করে।
নিহত নারীর নাম রোজিনা খাতুন। তাঁর গলায় ফাঁস নেওয়ার একটি দৃশ্যমান দাগ বা চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এই মৃত্যুটিকে ঘিরে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে আসার পরই কেবল মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসির দায়িত্ব পালনকারী মাহবুবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, রোজিনা তাঁর পুরো পরিবার নিয়ে পূর্ব নাখালপাড়া এলাকার ওই বাসায় বসবাস করতেন।
তাঁর স্বামী আরিফ হাসান পেশাগতভাবে একজন বৈদ্যুতিক সামগ্রী বিক্রেতা। এই দম্পতির সংসারে মোট দুটি সন্তান রয়েছে।
জরুরি সেবা নম্বরে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ওই আবাসস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করা হয় এবং ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে মৃতদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নিহতের স্বামী আরিফ হাসানকে পুলিশ আটক করেছে।
সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার উপপরিদর্শক বা এসআই হারুন অর রশীদ গণমাধ্যমকে জানান, গৃহবধূর মৃতদেহটি ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।
তাঁর গলার অংশে ফাঁস লাগানোর স্পষ্ট চিহ্ন দেখতে পাওয়া গেছে।
পুলিশ যখন মরদেহ উদ্ধার করতে যায়, তখন রোজিনার স্বামী আরিফ হাসান বাসার্থেই উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে সেখান থেকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, আটক স্বামীর কথাবার্তায় বেশ অসংলগ্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর এই মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর