ঢাকা | বঙ্গাব্দ

এমবাপ্পের পেনাল্টি বিতর্ক: ভিএআর ও রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 2, 2026 ইং
এমবাপ্পের পেনাল্টি বিতর্ক: ভিএআর ও রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ফুটবল মাঠে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি পাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। রিয়াল মাদ্রিদের জয়ের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে এই একটিমাত্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ম্যাচের পর বিষয়টি নিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে নানামুখী আলোচনা চলছে।

প্রতিপক্ষ দলের ফুটবলার মার্তিন পুরো বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তাঁর স্পষ্ট ভাষ্য ছিল, তিনি ফরাসি তারকার গায়ে কেবল সামান্য একটু হাত ছুঁইয়েছিলেন মাত্র। মার্তিনের মতে, ফুটবল মাঠে এমন অতি সাধারণ ঘটনাগুলোর জন্য কখনোই পেনাল্টি দেওয়া মানানসই নয়।

তবে ম্যাচ পরিচালনা করা রেফারি ঠিক কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, সেটির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মার্তিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রেফারি তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি মাঠে স্পষ্ট সংস্পর্শ দেখতে পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ভিএআর প্রযুক্তিও মাঠের রেফারিকে নিশ্চিত করেছে যে সত্যিই দুজনের মধ্যে শারীরিক সংস্পর্শ ঘটেছিল।

এমবাপ্পের সঙ্গে মার্তিনের যে সামান্য সংস্পর্শ হয়েছিল, তা নিয়ে কারোরই কোনো দ্বিমত নেই। মূল প্রশ্নটি উঠেছে অন্য জায়গায়, আর তা হলো—এই সামান্য স্পর্শ আদৌ পেনাল্টি দেওয়ার মতো কোনো গুরুতর অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি না।

রেসিং দলের কোচ হোসে আলবার্তোও মার্তিনের সঙ্গে পুরোপুরি সুর মিলিয়ে একই অবস্থান নিয়েছেন। রেসিং কোচের পরিষ্কার অভিমত হলো, কিলিয়ান এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেউ ধাক্কা দেয়নি কিংবা তাঁকে টেনে ধরেও রাখা হয়নি। আর এসবের ভিত্তিতেই তিনি মনে করেন যে রেফারির দেওয়া পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি একেবারেই সঠিক ছিল না।

অন্যদিকে, মাঠের মূল রেফারি মুনুয়েরার নেওয়া এই সিদ্ধান্তের পেছনেও সুনির্দিষ্ট কিছু জোরালো যুক্তি রয়েছে। রেফারি মুনুয়েরার কাছে মার্তিনের হাতের এই সংস্পর্শটি এমবাপ্পের স্বাভাবিক দৌড়ে বাধা দেওয়ার জন্য একেবারে যথেষ্ট বলে মনে হয়েছিল।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ডি-বক্সের ভেতর যেকোনো ধরনের সংস্পর্শ যদি কোনো আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়ের গতিরোধ করে, তবে সেটিকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে মার্তিনের হাতের স্পর্শ এমবাপ্পের অগ্রগতির পথে ঠিক কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, সেটি একদম নির্দিষ্ট করে মেপে দেখা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ।

এমন জটিল ও ধোঁয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত রেফারির নিজস্ব বিচার-বিবেচনাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব লাভ করে। এখানে মুনুয়েরাও নিজের মাঠের অভিজ্ঞতা থেকে সেই সিদ্ধান্তই গ্রহণ করেছেন।

অন্যদিকে, এই পুরো ঘটনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরের হস্তক্ষেপ করার সুযোগও বেশ কিছুটা সীমিত ছিল। এর মূল কারণ হলো, রেফারি নিজে স্বচক্ষে ঘটনাটি মাঠে দেখেছিলেন এবং নিজের একক বিবেচনায় ফয়সালা করেছিলেন।

যদি মার্তিনের সঙ্গে এমবাপ্পের কোনো ধরনের সংস্পর্শই না ঘটত, তবে ভিএআর প্রযুক্তি চাইলেই সেই পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারত। কিন্তু যেহেতু সামান্য হলেও সংস্পর্শের বাস্তব অস্তিত্ব ছিল, তাই রেফারির মূল সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত বহাল রাখা হয়।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সোমবার কুয়েত সফরে যাচ্ছ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সোমবার কুয়েত সফরে যাচ্ছ