নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) এবং মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)-এ শিক্ষার্থী ভর্তির বিস্তারিত প্রক্রিয়া ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি ২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এই ভর্তি প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এবং আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৬ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এরপর নির্ধারিত ভর্তি পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে।
অনলাইনভিত্তিক এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ৬ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত এবং এর পরবর্তী দিন একই সময় পর্যন্ত আবেদন ফি জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রার্থীরা আগামী ৯ ও ১০ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত নিজেদের প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। পরবর্তীতে ১৩ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে অনলাইনে এই ভর্তি কার্যক্রমে আবেদন করতে হবে এবং প্রতিটি আবেদনকারী প্রার্থী যেকোনো একটির জন্যই কেবল আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এই ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ টাকা, যা সম্পূর্ণ অফরযোগ্য এবং তা প্রিপেইড টেলিটকের মাধ্যমেই পরিশোধ করতে হবে।
চলতি বছর দেশের মোট ২৩টি আইএইচটি এবং ৭টি ম্যাটস প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে মোট ৩ হাজার ৬১৯টি আসন রয়েছে এবং ম্যাটসগুলোতে রয়েছে ৬৬৪টি আসন, যার ফলে সবমিলিয়ে মোট আসন সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৪ হাজার ২৮৩টিতে।
বিভিন্ন অঞ্চলে বরাদ্দকৃত আসনের মধ্যে রাজধানীতে ৩২৭টি, রাজশাহীতে ২৭৭টি, বগুড়ায় ৩০৭টি, চট্টগ্রামে ২৭৭টি, বরিশালে ২৭৭টি, রংপুরে ২৭৭টি, ঝিনাইদহে ২৭৭টি, সিলেটে ২৫৭টি, সিরাজগঞ্জে ১০৩টি, সাতক্ষীরায় ১০৩টি, জামালপুরে ২০৬টি, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ১০৩টি, গাজীপুরে ১০৩টি, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ১০৩টি, জয়পুরহাটে ১০৩টি, মাদারীপুরে ১৫৫টি, মানিকগঞ্জে ৫২টি, মুন্সীগঞ্জে ৫২টি, নোয়াখালীতে ৫২টি, নওগাঁয় ৫২টি, কুড়িগ্রামে ৫২টি, ময়মনসিংহে ৫২টি এবং মাদারীপুরের শিবচরে ৫২টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
এছাড়াও বাগেরহাটে ১৫২টি, কুষ্টিয়ায় ১০২টি, নোয়াখালীতে ১০২টি, সিরাজগঞ্জে ১০২টি, টাঙ্গাইলে ১০২টি, কুমিল্লায় ৫২টি এবং ফরিদপুরে ৫২টি আসন নির্দিষ্ট করা রয়েছে।
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী কিংবা উপজাতিভুক্ত প্রার্থীদের জন্য সর্বমোট আসনের মাত্র ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখার নিয়ম রয়েছে। আইএইচটিগুলোর ক্ষেত্রে এই ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত হলেও সংশ্লিষ্ট অনুষদের মোট আসনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে কোনো নির্দিষ্ট অনুষদে একজনের বেশি প্রার্থীকে বিবেচনা করা হবে না এবং ম্যাটসগুলোর ক্ষেত্রেও অনুরূপভাবে ১ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে। উপজাতি প্রার্থীদেরও অন্যান্য সাধারণ প্রার্থীদের মতো একই ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করাসহ একই সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে এবং পরবর্তীতে কেবল মেধার ভিত্তিতেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বা উপজাতির প্রার্থীদের সংরক্ষিত আসনের ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকা সরকারের সর্বশেষ নিয়মকানুন বলবৎ থাকবে এবং কোনো সংরক্ষিত আসনে যদি উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া যায়, তবে সাধারণ মেধাক্রমের নিয়মে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের অর্জিত মেধাক্রম অনুযায়ী প্রথমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর, বাকি থাকা উত্তীর্ণ প্রার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো যেকোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবেন। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে যারা আবেদন করবেন, তাদের মেধাক্রম যাচাই করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি ভর্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মোট আসনের ৫ শতাংশ আসন মেধাবী অথচ অসচ্ছল ছাত্রছাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে সংরক্ষিত থাকবে। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ এই ধরনের বিশেষ ক্যাটাগরির ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত বেতন-ভাতাদি এবং সেশন চার্জের বাইরে অতিরিক্ত কোনো ধরনের ফি বা অর্থ গ্রহণ করতে পারবে না।
সরকারি এবং বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ কর্তৃক অনুমোদিত নির্দিষ্ট কারিকুলাম অনুসরণ করেই তাদের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা ইন মেডিক্যাল টেকনোলজি কোর্সের চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম অনুযায়ী ৯ মাস মেয়াদী হাসপাতালে সংযুক্ত থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যা সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ডেন্টাল কলেজ, ইনস্টিটিউট কিংবা বিশেষায়িত হাসপাতালের পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালেও সম্পন্ন হতে পারে। পাশাপাশি ম্যাটসের শিক্ষার্থীদের কোর্স সমাপ্তির পর বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ অনুমোদিত লগবুক অনুযায়ী নিকটস্থ জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা অন্তত ১০০ শয্যাবিশিষ্ট যেকোনো হাসপাতালে ৬ মাসের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
আবেদনের সাধারণ শর্ত অনুযায়ী প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।
ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে প্রার্থীর বিগত ৪ শিক্ষাবর্ষের যেকোনো একটি এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই কেবল ভর্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
আবেদনকারীকে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় অবশ্যই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং তার ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে। এর সঙ্গে জীববিজ্ঞান বিষয়েও প্রার্থীর অবশ্যই ন্যূনতম জিপিএ ২.০০ অর্জন নিশ্চিত করতে হবে।
এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সিলেবাস অনুসরণ করেই মোট ১০০ নম্বরের একটি এমসিকিউ পরীক্ষা মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত মানবণ্টন অনুযায়ী বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞানের প্রতিটিতে ১৫ নম্বর করে এবং সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে মোট ১০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। এমসিকিউ পরীক্ষায় পাস করার জন্য সর্বনিম্ন নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০। এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএকে ৫-এর গুণিতক দিয়ে দ্বিগুণ করে প্রাপ্ত ১০ নম্বর এবং ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের যোগফলের ভিত্তিতে জাতীয় মেধা তালিকা তৈরি করে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত এই ভর্তি পরীক্ষায় যারা অকৃতকার্য হবেন, তারা দেশের কোনো সরকারি বা বেসরকারি আইএইচটি এবং ম্যাটসে ভর্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর