নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সরকার কর্তৃক ধারাবাহিকভাবে গ্যাস ও জ্বালানির দাম বাড়ানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারের কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছে সংস্থাটি। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে অবিলম্বে নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে যে, এলপিজি বা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের দাম বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে অটো গ্যাসসহ দেশের বাজারে প্রচলিত সব ধরনের জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, যৌক্তিকতা এবং জনস্বার্থের বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির এই অজুহাত দেখিয়ে যাতে কোনোভাবেই পরিবহন ভাড়া এবং সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কারসাজি রোধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর বাজার তদারকি বা মনিটরিং নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার পরিষদ।
দেশের দরিদ্র ও সাধারণ আয়ের মানুষের সুরক্ষার বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত এবং সীমিত আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য তাদের পক্ষে বিশেষ মূল্য সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ভর্তুকি চালুর ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।
এ ছাড়া সার্বিকভাবে দেশের জ্বালানি খাতের ভেতরে বিদ্যমান বিভিন্ন অনিয়ম, অপচয়, দুর্নীতি এবং ব্যবস্থাপনাগত নানা দুর্বলতা কঠোরহস্তে দূর করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান করে সাধারণ জনগণের ওপর থেকে লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির আর্থিক চাপ কমিয়ে আনতে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর