নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শেরপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াদ হত্যাকাণ্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। এমনকি নদী পর্যন্ত লাশ বয়ে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো অপরাধে রিয়াদের নানি তাঁকে সাহায্য করেছিলেন বলেও তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত রিয়াদ ও নিহত আসাদুল দুজনেই মাদকাসক্ত ছিলেন। গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে রণবীরবালা এলাকায় অবস্থিত রেহানা বেগমের বাসভবনে বসে তাঁরা দুজনে মিলে ইয়াবা সেবন করছিলেন।
মাদক সেবনের সময় রিয়াদের হাতে থাকা নতুন ও চকচকে একটি ৫০ টাকার নোট দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন আসাদুল। কিন্তু আসাদুলকে সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও বিরোধ শুরু হয়।
বিরোধের একপর্যায়ে আসাদুল তাঁর কাছে থাকা কলম দিয়ে রিয়াদকে আঘাত করার চেষ্টা চালান। এতে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়াদ ঘরের ভেতরে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে আসাদুলের গলার অংশে আঘাত করেন।
ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন আসাদুল। এরপর তাঁর মুখমণ্ডলে কাপড় গুঁজে দেওয়ার পাশাপাশি বুক চেপে ধরে শ্বাস রোধ করেন রিয়াদ।
হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর একটি বিছানার চাদর দিয়ে আসাদুলের মৃতদেহ মুড়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে চলা করতোয়া নদীতে সেই লাশ ফেলে দেওয়া হয়, যেখানে রিয়াদকে তাঁর নানি রেহানা বেগম সহায়তা করেন।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, মূলত আসাদুলের মালিকানাধীন অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেওয়ার হীন উদ্দেশ্য ছিল রিয়াদের।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ২৪ অক্টোবর দুপুরের পরের সময়ে আসাদুলের অটোরিকশায় যাত্রী হিসেবে ওঠেন রিয়াদ। এরপর চালক আসাদুলকে নিয়ে তিনি সরাসরি তাঁর নানির বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন।
ওসি আরও উল্লেখ করেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে আজ রোববার বিকalের দিকে বগুড়ার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর