নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
আসছে বুধবার, অর্থাৎ আগামী ৪ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নির্বাচনটির চূড়ান্ত ফল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে নতুন সরকার গঠনের সাংবিধানিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে নির্ধারিত রয়েছে। এই ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শ করবেন। পরবর্তীতে তিনি যেকোনো একজন মনোনীত প্রার্থীকে সরকার গঠনের জন্য দীর্ঘ ৪২ দিনের সময়সীমা বরাদ্দ দেবেন।
গত ১ নভেম্বর সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতি বিশেষ এক আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। তিনি এই পরিস্থিতিতে সবাইকে এক ধরনের সৃজনশীল সমাধান খুঁজে বের করার তাগিদ দেন। এছাড়া, দেশে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন আয়োজন এড়াতে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন করার ওপরও তিনি অত্যন্ত জোরালো গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
প্রেসিডেন্টের এই উদ্যোগের পাশাপাশি নেতানিয়াহুবিরোধী সম্ভাব্য জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। গত ১ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট গণমাধ্যমের সামনে এসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তিনি আইজেনকটকে নিজের পূর্ণ সমর্থন প্রদান করবেন।
এদিকে গত নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ও ভোট গণনা চলাকালীন সময়ে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছিলেন যে ওই দলগুলো ভোট চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে আরব নেতারা তাঁর এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, এটি মূলত নির্বাচনে তাদের অর্জিত ঐতিহাসিক ও রেকর্ড সাফল্যকে বিতর্কিত করার একটি হীন চেষ্টা মাত্র।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রধান নোয়াম সলবার্গ এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে নির্বাচন প্রক্রিয়া অত্যন্ত যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, প্রকাশিত ফলাফল দেশের সাধারণ ভোটারদের প্রকৃত ইচ্ছারই সঠিক প্রতিফলন ঘটিয়েছে। যদিও কিছু নির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে, তবুও তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে এসব তদন্ত সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। তবে নির্বাচন কমিশনের এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি।
বর্তমানে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আরব জয়েন্ট লিস্ট এবং রা’আম পার্টির ১৯ জন সংসদ সদস্যের পরবর্তী ভূমিকা। তারা নতুন সরকারে সরাসরি অংশীদার হিসেবে যুক্ত হবেন, নাকি বাইরে থেকে কোনো সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন দেবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। আরব দল তাআলের শীর্ষ নেতা আহমেদ তিবি এই বিষয়ে বলেছেন যে নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রক্রিয়ায় তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চান, তবে তারা সরকারের কোনো মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করবেন না।
অন্য একটি আন্তর্জাতিক বিষয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি একটি বিশেষ বিষয় নিয়ে নিজের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মূলত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সংঘটিত হামলার প্রকাশ্য নিন্দা জানাননি এমন কোনো রাজনীতিককে নতুন সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে এমন একটি আশঙ্কা প্রবল রয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই ইরানে আবারও যৌথভাবে হামলা শুরু করতে পারে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি এই সামরিক সংঘাত নতুন করে শুরু হয়, তবে তা হয়তো তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ভঙ্গুর রাজনৈতিক অবস্থানকে কিছুটা হলেও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
তবে এই সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছেন মধ্য-বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়াইর গোলান। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করার ন্যূনতম নৈতিক বৈধতাও নেতানিয়াহুর নেই। তিনি আরও যোগ করেন, কোনো অবস্থাতেই যেন ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া না হয়। তাই যত দ্রুত সম্ভব একটি বিকল্প সরকার গঠন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর