নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) পুঁজিবাজারে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ প্রস্তাব পেশ করেছে। তাদের এই প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত শেয়ারবাজারের নির্দিষ্ট কিছু লেনদেন থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফার ওপর সম্পূর্ণ কর অব্যাহতি দেওয়া হোক।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সদ্য প্রণীত আয়কর আইন, ২০২৩-এর প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো সংশোধন করলেই এই সুবিধা বাস্তবায়ন সম্ভব। তবে এই ছাড়ের পরিধি সব ধরনের বেচাকেনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। একমাত্র স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতর দিয়ে সম্পন্ন এবং অনুমোদিত কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া যোগ্য লেনদেনগুলোই কেবল এই করমুক্ত সুবিধার আওতায় আসবে।
ব্যক্তিগত পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ডিবিএ পূর্ণাঙ্গ কর অব্যাহতি দেওয়ার পুরনো বিধানটি পুনরায় চালু করার জোর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে, বিদেশি ব্যক্তি বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রযোজ্য বর্তমান করের কাঠামোটি নতুন করে পর্যালোচনা করে দেখার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।
তবে এই করছাড়ের সুযোগ সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। ডিবিএ স্পষ্ট করেছে যে, কোম্পানির উদ্যোক্তা বা স্পনসর, পরিচালক এবং দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে কর আদায়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেটি যেন অপরিবর্তিত রাখা হয়। এর ফলে কোন শ্রেণির বিনিয়োগকারী এই সুবিধা পাবেন আর কার ওপর কর বহাল থাকবে, তার একটি পরিষ্কার রূপরেখা তৈরি হবে।
নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এই কর অব্যাহতির প্রস্তাব উত্থাপনের পেছনে একটি যৌক্তিক কারণও তুলে ধরেছে ডিবিএ। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) যখন তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করতে পারবে, তখন মূলধনি মুনাফার সঠিক হিসাব কষা এবং কর নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়ে যাবে।
যেহেতু আধুনিক সেই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হতে কিছুটা সময় লাগবে, তাই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই কর অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে ডিবিএ। তাদের বিশ্বাস, এই দীর্ঘমেয়াদী নীতি সহায়তা বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর