ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শীত ও বৃষ্টির ভোগান্তি এড়াতে কর্মীদের বিএমডব্লিউ দিলেন চীনা ব্যবসায়ী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
শীত ও বৃষ্টির ভোগান্তি এড়াতে কর্মীদের বিএমডব্লিউ দিলেন চীনা ব্যবসায়ী ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

চিনের হেনান প্রদেশের জিয়াওজুও অঞ্চলে গরুর মাংসের হটপট রেস্তোরাঁর একটি জনপ্রিয় শৃঙ্খল ব্যবসা পরিচালনা করেন মা ইয়ানলি। তাঁর অধীনে কাজ করা কর্মীরা সাধারণত বৈদ্যুতিক স্কুটার ব্যবহার করেই কর্মস্থলে যাতায়াত করে থাকেন। তবে শীতকাল, বৃষ্টি কিংবা যেকোনো ঝোড়ো আবহাওয়ায় তাঁদের এই যাতায়াত প্রক্রিয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়, যা গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল ওই রেস্তোরাঁমালিককে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরগাড়ির একটি শোরুমে প্রবেশ করেন মা ইয়ানলি। ওই সময় কর্মীদের মূলত একটি বিশেষ বৈঠক করার কথা বলে সেখানে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট প্রদর্শনী কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর তাঁরা বুঝতে পারেন যে, তাঁদের জন্য আস্ত একটি নতুন গাড়ি উপহার অপেক্ষা করছে।

প্রদান করা প্রতিটি গাড়ির আর্থিক মূল্য প্রায় তিন লক্ষ চিনা ইউয়ান বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পঁচান্ন লক্ষ সত্তর হাজার টাকা। উল্লেখ্য, বিশ্বমানের এই বিলাসবহুল উপহারগুলো কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়ার ঠিক দুই সপ্তাহ আগেই নিজে কিনে রেখেছিলেন উদ্যোক্তা মা ইয়ানলি।

এমন অপ্রত্যাশিত বিলাসবহুল উপহার পেয়ে অভিভূত কর্মীর তালিকায় থাকা লি জিয়ে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে জানান, তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন এবং এর আগে কখনো এমন কিছু উপহার পাওয়ার কথা কল্পনা করারও সাহস করেননি। তিনি আরও জানান, শোরুমের দিকে রওনা হওয়ার সময় মালিক মা ইয়ানলি তাঁকে একটি বড় খেলনা উপহার দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

নিজের অধীনস্থ কর্মীদের এমন অভাবনীয় উপহার দেওয়ার মূল পেছনের কারণও গণমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট করেছেন উদ্যোক্তা মা ইয়ানলি। তীব্র ঠান্ডার মধ্যে যাতায়াত শেষ করে এক কর্মী কাজে ফেরার পর তাঁর মুখমণ্ডল লাল হয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি তাঁর চোখে পড়েছিল, যা তাঁকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছিল।

নিজের এই উপলব্ধির কথা জানিয়ে মা ইয়ানলি প্রশ্ন রেখেছিলেন যে, তিনি নিজে যখন অত্যন্ত আরামদায়ক উপায়ে যাতায়াত করেন, তবে তাঁর কর্মীরা কেন এমন প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করবেন। মূলত কর্মীদের প্রতি মালিকের এই সহানুভূতিশীল মানসিকতা থেকেই বিলাসবহুল এই চার চাকার গাড়িগুলো উপহার দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানের বর্তমান বাণিজ্যিক সাফল্যের পেছনে কর্মীদের যৌথ ও নিরলস অবদান রয়েছে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন মা ইয়ানলি। তাঁর সুদৃঢ় ধারণা অনুযায়ী, একটি ব্যবসা যখন আর্থিকভাবে ভালো ফল করে, তখন সেই সাফল্যের সুফল কর্মীদের মধ্যেও সমানভাবে বণ্টন করা উচিত।

কর্মীদের বহুমূল্যবান গাড়ি উপহার দেওয়ার এই পুরো ঘটনাটিকে সেই ইতিবাচক দর্শনেরই বাস্তব প্রতিফলন বলে গণ্য করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই ঘটনাটি ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোড়ন ও ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে। নেটিজেনদের অনেকেই সাধারণ কর্মীদের প্রতি ওই নারী উদ্যোক্তার উদার মানসিকতা এবং তাঁদের দৈনন্দিন যাতায়াত দুর্ভোগ নিয়ে সংবেদনশীল ভাবনার মুক্তকন্ঠে প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে, কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের উপযুক্ত স্বীকৃতি প্রদান এবং প্রতিষ্ঠানের অর্জিত সাফল্যে তাঁদের অংশীদার করার বিভিন্ন উপায় নিয়েও সমাজের নানা মহলে গভীর আলোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
আরও কমলো স্বর্ণের দাম

আরও কমলো স্বর্ণের দাম