ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বৈদ্যুতিক তারে জখম সাকিবের চিকিৎসায় এগিয়ে এল পটিয়া বন্ধুসভা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
বৈদ্যুতিক তারে জখম সাকিবের চিকিৎসায় এগিয়ে এল পটিয়া বন্ধুসভা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

প্রথম আলোর আটাশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত ‘একটি ভালো কাজ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মারাত্মকভাবে জখম হয়ে চিকিৎসাধীন এক তরুণ শিক্ষার্থীকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করেছে পটিয়া বন্ধুসভা। গত ২৪ অক্টোবর এই নগদ অর্থ সাহায্য হস্তান্তর করা হয় ওই তরুণের অভিভাবকদের কাছে।

দুর্ঘটনার শিকার হওয়া এই শিক্ষার্থীর নাম ইফতিকার হোসেন সাকিব। পড়ালেখা শেষ করে নিজের জীবন গড়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল তাঁর। তবে পরিবারের চরম আর্থিক সংকটের কারণে তাকে বেশ অল্প বয়স থেকেই আয়ের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়। অসুস্থ পিতার সংসারে হাত লাগানোর জন্য সে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই রংমিস্ত্রির কাজ শিখে নেয়।

শিক্ষার পাশাপাশি সে ছাত্রছাত্রীদের পড়াত এবং বাসার ছাদে দেশি জাতের মুরগি লালন-পালন করে নিজের পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহ করত। অথচ সংগ্রামমুখর এই তরুণ বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একটি পা চিরতরে হারিয়েও তাঁর মনের জেদ এতটুকু কমেনি, সুস্থ হয়ে আবারও ক্লাসে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার দক্ষিণ গোবিন্দার খীল অঞ্চলের বাসিন্দা উনিশ বছর বয়সী ইফতিকার হুলাইন ছালেহ নুর ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছয় সদস্যবিশিষ্ট পরিবারের সবচেয়ে বড় সন্তান হলেন তিনি।

পরিবারের লোকজনের ভাষ্যমতে, গত ১৩ অক্টোবর পটিয়া এলাকার একটি বহুতল ভবনে রঙের কাজ করতে গিয়ে ছাদের ওপরে কোনোভাবে আনমনা হয়ে এগারো হাজার ভোল্টের একটি বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে যান সাকিব। একটানা প্রায় ষাট সেকেন্ড বিদ্যুতের সঙ্গে আটকে থাকার পর এক পথচারী বিষয়টি লক্ষ্য করেন।

ওই পথচারী রং করার কাজে ব্যবহৃত রসি নাড়া দিয়ে সাকিবকে বৈদ্যুতিক তারের কবল থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করলে তিনি ছাদ থেকে নিচে মাটিতে পড়ে যান। প্রথমে তাঁকে গুরুতর জখম অবস্থায় পটিয়ার স্থানীয় একটি চিকিৎসালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেখানে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

তীব্র বিদ্যুৎপ্রবাহের আঘাতে তাঁর দেহের নানা অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচার চালিয়ে তাঁর বাম পা পুরোপুরি কেটে বাদ দিতে বাধ্য হয়েছেন চিকিৎসকরা।

পটিয়া বন্ধুসভার এই মহৎ উদ্যোগের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সাকিবের পিতা মোরাম্মদ ইদ্রিস জানান, তাঁর ছেলের পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একজন উদ্যোক্তা হওয়ার বড় স্বপ্ন ছিল। সে তাদের বাসার ছাদে ছোট পরিসরে মুরগির খামারও প্রস্তুত করেছিল।

পরবর্তীতে সংসারে আর্থিক অনটন চরম আকার ধারণ করলে এসব কাজের পাশাপাশি সে রংমিস্ত্রির কাজ নেওয়া শুরু করে। সন্তানের এমন ভয়াবহ পরিণতি দেখে তারা আজ সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আইসিইউতে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি ব্যাপার উল্লেখ করে তিনি বলেন যে তারা অত্যন্ত দরিদ্র মানুষ হওয়ায় এই বিপুল খরচ বহন করা তাদের পক্ষে সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও সাধারণ সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ তহবিল সংগ্রহ করে সাকিবের মাতা ও পিতার হাতে চিকিৎসার সাহায্য হিসেবে নগদ দশ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এই মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে চরম দুর্দিনের মুহূর্তে পরিবারটির পাশে থাকার পাশাপাশি সাকিবের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুদৃঢ় স্বপ্নের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেছেন বন্ধুসভার বন্ধুরা।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
৭ মারাত্মক রোগে আর্থিক সহায়তা পেতে নতুন করে আবেদনের নির্দেশ

৭ মারাত্মক রোগে আর্থিক সহায়তা পেতে নতুন করে আবেদনের নির্দেশ