নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বলিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হামলাকারীদের পাকড়াও করতে মোট পনেরোটি বিশেষ দল মাঠে নামানো হয়েছে। অপরাধীদের পলায়নকাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেটে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নামে ছড়িয়ে পড়া দায় স্বীকারের বার্তাটি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করছেন গোয়েন্দারা। তবে এই ঘটনার সঙ্গে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সরাসরি কোনো সংযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কিছু জানায়নি পুলিশ।
গত রোববার সান্ধ্যকালীন সময়ে জুহু অঞ্চলে একটি ফুটবল ম্যাচ খেলে নিজের বাহনে ফিরছিলেন এই অভিনেতা। সেই সময় আকস্মিক হামলার শিকার হন তিনি। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর গাড়িতে মোট পাঁচটি গুলি চালানো হয়। ভাগ্যক্রমে তার শরীরে কোনো আঘাত লাগেনি, তবে তাঁর চালক ফেরদৌস এবং ওই এলাকায় উপস্থিত থাকা উমেশ চবন নামের অন্য এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, দুজনই এখন আশঙ্কামুক্ত আছেন।
মাঠ থেকে বেরিয়ে গাড়িতে বসার পর চারপাশের ভক্তদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়ছিলেন এই অভিনেতা। ঠিক তখনই অতর্কিত আক্রমণ শুরু হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অপরাধীরা সরাসরি যানের কাছে এসে গুলি চালাচ্ছে। যার ফলে মুহূর্তেই ভক্তদের আনন্দ আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় রূপ নেয়।
দুজন হামলাকারী অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণ করছিলেন এবং তাদের তৃতীয় সহযোগী একটি মোটরসাইকেল নিয়ে কাছাকাছি প্রস্তুত ছিলেন। একটি ক্লিপে দেখা যায়, গুলিবর্ষণের একপর্যায়ে এক হামলাকারীর অস্ত্র জ্যাম হয়ে গিয়েছিল। এরপর তারা দ্রুত মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, টাইগার নিজেই চালকের আসনে গিয়ে বসছেন। ঘটনার সময় এক নারীর চিৎকার শোনা যায়, যিনি দ্রুত গাড়িটি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার তাগাদা দিচ্ছিলেন। রক্তাক্ত চালককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারকা নিজেই নিজের গাড়ি চালিয়ে নানাবতী হাসপাতালে পৌঁছান। ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর পিচঢালা রাস্তায় রক্তের ছিটেফোঁটা দেখা যায়।
অপরাধীরা আন্ধেরি রেলস্টেশনের কাছাকাছি গিয়ে মোটরসাইকেলটি ফেলে পালিয়ে যায় বলে জানানো হয়েছে। সেই বাহনটি জব্দ করে ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। আহত চালকের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে, যার বাঁ হাতে গুলি লেগেছিল। হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও অস্ত্র আইনে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত যানের নম্বরপ্লেট ও চেসিস নম্বর যাচাই করে মালিকের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে আক্রমণকারীদের পলায়নের সুনির্দিষ্ট পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধুর নাম ব্যবহার করে ইন্টারনেটে একটি দায় স্বীকারের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, তারকাকে ইতিপূর্বে মুঠোফোনে সতর্ক করা হয়েছিল এবং তা অমান্য করায় এই নিশানা করা হয়েছে। এমনকি অন্য এক অভিনেতার সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তবে এসব বার্তা এবং অডিও ক্লিপের সত্যতা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে।
পুরোনো ঘটনার জেরে এই বৈরিতা চলে আসছে। অতীতে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই গ্যাংয়ের প্রধানের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। রাজস্থানে একটি ছবির শুটিংয়ের সময় ওই ঘটনার সূত্রপাত হয়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিবেদিত সম্প্রদায়টি এই প্রাণীকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করে। সেই ক্ষোভ থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে গ্যাংটি। এর আগে তারকা অভিনেতার বাসভবনের বাইরেও গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল। এমনকি এক রাজনীতিকের হত্যাকাণ্ডের দায়ও স্বীকার করেছিল এই চক্রের সদস্যরা।
নতুন এই হামলার ঘটনায় চক্রটির নাম জোরালোভাবে সামনে আসলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশের পক্ষ থেকে দায় স্বীকারের পোস্টটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর তারকার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে প্রশাসন। জ্যাকি শ্রফ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে তাঁর ছেলে সুস্থ আছেন। মা আয়েশা শ্রফও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে সরাসরি ফোনালাপে কথা বলেছেন এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া উপমুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং বাসভবনে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতের সময় তারকার হাতে ব্যান্ডেজ ও শরীরের নানা স্থানে ড্রেসিংয়ের চিহ্ন দেখা যায়। উপমুখ্যমন্ত্রী জানান, গুলি না লাগলেও বারুদ ও কাচ ভেঙে তাঁর সামান্য আঘাত লেগেছে। এই ঘটনায় মা ও ছেলে উভয়েই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে জানানো হয়েছে যে মুম্বাইয়ে কোনো ধরনের সন্ত্রাস বা হুমকি বরদাশত করা হবে না।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর