নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় দলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও পুরনো দূরত্ব আবারও পরিষ্কার হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা একই দিনে পৃথক স্থানে দুটি ভিন্ন জনসভার আয়োজন করায় এই বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আয়োজনের জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে এবং তীব্র ভাষায় দোষারোপের রাজনীতিতে জড়িয়েছে।
নির্ধারিত দিনে বিকালের দিকে পৌর পার্কের উন্মুক্ত চত্বরে একটি অংশের নেতাকর্মীরা জমায়েত হয়ে সমাবেশের সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই আয়োজনের নেতৃত্বে ছিলেন জেলা শাখার দায়িত্বে থাকা শীর্ষ দুই নেতা গোলাম জাকারিয়া ও রফিকুল ইসলাম।
উক্ত সমাবেশে সভাপতিত্বের দায়িত্বে ছিলেন জেলা কমিটির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া। প্রধান বক্তার আসন অলংকৃত করে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন জেলা শাখার সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম। এছাড়া বিশেষ অতিথির আসন থেকে সংগঠনের নীতি ও আদর্শ নিয়ে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম।
প্রায় একই সময়ে ভৌগোলিক দূরত্বের ব্যবধানে শহরের ঐতিহ্যবাহী হরিমোহন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অন্য অংশটি আরেকটি পৃথক রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করে। এই মঞ্চটির নিয়ন্ত্রণ ছিল সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়ার অনুসারীদের হাতে।
বিদ্যালয় মাঠের এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা কমিটির সাবেক প্রচার সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। সেখানে প্রধান অতিথির দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন হারুনুর রশীদ এবং প্রধান বক্তা হিসেবে দলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া।
সংগঠনের এই দ্বিখণ্ডিত রূপ ও আলাদা কর্মসূচি পালনের মূল কারণ জানতে চাইলে জেলা কমিটির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে তার ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, বিগত দুই সালের শেষ দিক থেকে দলীয় বৈধ নেতৃত্ব ও দায়িত্ব তাদের ওপর অর্পিত রয়েছে এবং তারাই মূলধারার প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃত।
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমান জেলা কমিটির মাধ্যমেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিবসটি পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি প্রতিপক্ষ শিবিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মন্তব্য করেন যে, হারুনুর রশীদ ও আশিফা আশরাফির সঙ্গে মূল দলীয় কাঠামোর কোনো সংযোগ নেই এবং কেন তারা এমন বিভেদ সৃষ্টি করে আলাদা কর্মসূচি রাখলেন, তা তাদের কাছেই জানতে চাওয়া উচিত।
এদিকে প্রতিপক্ষ শিবিরের নেত্রী সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন অংশের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর এক রাজনৈতিক অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাদের গোপন সখ্য ও সংশ্লিষ্টতার জোরালো দাবি করেন।
তিনি তার বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন যে, তারা দীর্ঘকাল ধরে যেভাবে দলীয় নিয়ম মেনে দিবসটি পালন করে আসছেন, আজও সেভাবেই অনুষ্ঠান করেছেন। যারা অতীতে বিভিন্ন সময় প্রতীকভিত্তিক দলের মঞ্চে অবস্থান নিয়েছেন কিংবা বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন, তাদের আচরণ কোনোভাবেই শহীদ জিয়ার আদর্শের দল হতে পারে না বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও কঠোর ভাষায় প্রশ্ন তোলেন যে, অতীতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা ব্যক্তিরা কীভাবে নিজেদের এই দলের দাবিদার হতে পারেন। তার মতে, সাংগঠনিক পদ-পদবি পকেটে থাকলেই কেউ সত্যিকার অর্থে আদর্শের বাহক বা প্রকৃত রাজনৈতিক দলের মানুষ হয়ে উঠতে পারে না।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর