নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিভিন্ন দেশের গণপরিবহনে যাত্রীদের অসামাজিক কার্যকলাপ ও শব্দদূষণের বিরুদ্ধে প্রশাসনগুলো এখন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। বিশ্বব্যাপী এই আইনগুলো প্রণয়নের মূল লক্ষ্য হলো সবার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করা।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাস এবং সাবওয়েতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও কড়া নিয়মকানুন রয়েছে। এসব যানে হেডফোন ব্যবহার না করে সরাসরি কোনো ধরনের অডিও বা গান বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কোনো যাত্রী এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক জরিমানা ও তিরস্কারের মুখোমুখি হতে হয়।
যুক্তরাজ্য সরকার গণপরিবহনের ভেতরে চলা শব্দদূষণ ও সমস্ত অসামাজিক কর্মকাণ্ড রোধ করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ জাতীয় সচেতনতামূলক উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। "শেয়ার দ্য জার্নি নট দ্য নয়েজ" শিরোনামের এই প্রচারণাটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বাসে উচ্চস্বরে গান বাজানোর মতো ঘটনা, ধূমপান করা কিংবা যেকোনো ধরনের আবর্জনা ফেলার অপরাধে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন সর্বোচ্চ ১০০ ইউরো পর্যন্ত স্পট ফাইন বা ফিক্সড পেনাল্টি নোটিশ কাটার ক্ষমতা লাভ করেছে।
রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলোর ব্যত্যয় ঘটিয়ে উচ্চৈঃস্বরে মিডিয়া চালালে ট্রেন থামিয়ে পরবর্তী স্টেশনে যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ে বাই-ল বা উপআইন অনুযায়ী এই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা এবং প্রসিকিউশনের আইনি প্রক্রিয়ার মুখে পড়তে হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের মূলধারা রাজনীতিতেও এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের যেকোনো অসামাজিক আচরণের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
বাস্তবতা হলো, গণপরিবহন মূলত একটি সম্পূর্ণ সর্বজনীন সামাজিক স্থান যেখানে ভ্রমণের সময় প্রতিটি মানুষেরই একটি স্বাচ্ছন্দ্যময় ও শান্ত পরিবেশ পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমগ্র বিশ্ব জুড়েই বর্তমানে বলবৎ থাকা কঠোর আইনকানুন, সাইলেন্ট জোন বা নীরব জোন বাস্তবায়ন এবং আর্থিক জরিমানের মতো ব্যবস্থাগুলো যাত্রীদের অনেক বেশি দায়িত্বশীল ও সচেতন আচরণ প্রদর্শনে উৎসাহিত করে তুলছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর