ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নারীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ দেশ কোনটি, বাংলাদেশের অবস্থান কত?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 29, 2026 ইং
নারীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ দেশ কোনটি, বাংলাদেশের অবস্থান কত? ছবির ক্যাপশন: নারীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ দেশ কোনটি, বাংলাদেশের অবস্থান কত?
ad728

বিশ্বে একজন নারীর জন্য বসবাসের সবচেয়ে ভালো দেশ কোনগুলো? জাতিসংঘের সর্বশেষ উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি (ডব্লিউপিএস) সূচক অনুযায়ী, সেই অবস্থান এখনো উত্তর ইউরোপের (নর্ডিক) দখলে। নর্ডিক অঞ্চলের দেশগুলো সূচকের শীর্ষ ৫টি স্থানই ধরে রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি প্রকাশিত ২০২৫-২৬ সালের ডব্লিউপিএস সূচকে বিশ্বের ১৮১টি দেশকে নারীদের অন্তর্ভুক্তি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ১৩টি সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলই ২০২৬ সালের বৈশ্বিক এই র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তি।

নারীদের শান্তি ও নিরাপত্তার সূচকের ভিত্তিতে বিশ্বের সেরা ও সবচেয়ে খারাপ দেশগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। র‌্যাঙ্কিং বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিশ্বে স্পষ্ট একটি ভৌগোলিক বিভাজন রয়েছে। উত্তর ইউরোপ এখনো নারীদের কল্যাণে বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় আক্রান্ত দেশগুলো তালিকার একেবারে নিচের দিকে অবস্থান করছে।

ডেনমার্ক ০.৯৩৯ স্কোর নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। এরপর যথাক্রমে আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড রয়েছে। শীর্ষ দশে আরও রয়েছে লুক্সেমবার্গ, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া এবং নিউজিল্যান্ড।

অন্যদিকে আফগানিস্তান সবচেয়ে নিচে অবস্থান করেছে। দেশটির স্কোর ডেনমার্কের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম।

বাংলাদেশের অবস্থান কততম?

জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির প্রতিবেদনে ১৮১টি দেশকে মোট পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর শেষ ভাগে আছে বাংলাদেশ (১৫৫তম)। স্কোর শূন্য দশমিক ৫২৬। নিচের দিকে থাকা বাকি দেশগুলোর অধিকাংশই আফ্রিকা অঞ্চলের।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পরের অবস্থানে আছে পাকিস্তান (১৬৯) ও মিয়ানমার (১৭২)। বিপরীতে নারীদের বসবাসের জন্য ভালো বিবেচনায় ওপরের দিকে আছে সিঙ্গাপুর (১৭তম), জাপান (২২), তাইওয়ান (২৭) ও দক্ষিণ কোরিয়া (৩৭)।

পড়াশোনা, ভ্রমণ কিংবা কাজের জন্য বাংলাদেশিরা যেসব দেশে বেশি যাতায়াত করেন, সেগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ২৩তম। এরপর আছে- যুক্তরাষ্ট্র (৩১), ইতালি (৩৯), থাইল্যান্ড (৫৭), ওমান (৫৮), সৌদি আরব (৬৩), মালয়েশিয়া (৬৭), শ্রীলঙ্কা (৭৭), মালদ্বীপ (৭৮), চীন (৮৯), নেপাল (১২০) ও ভারত (১৩১)।

কেন এগিয়ে নর্ডিক দেশগুলো?

অন্তর্ভুক্তি, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা এই তিনটি প্রধান সূচকেই ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করায় নর্ডিক দেশগুলো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। এসব দেশের নারীরা সাধারণত উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান, আইনি সুরক্ষা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুবিধা ভোগ করেন। একই সঙ্গে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হারও তুলনামূলকভাবে কম।

শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নারীদের সমতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

যদিও কোনো দেশই সর্বোচ্চ ১.০ স্কোর অর্জন করতে পারেনি, তবুও নারীদের জীবনমানের ক্ষেত্রে নর্ডিক অঞ্চল এখনো বিশ্বের আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উত্তর ইউরোপের বাইরে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে কোস্টারিকা ও উরুগুয়ে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক শীর্ষ ২০ শতাংশ দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। নারীর অধিকার ও কল্যাণে ধারাবাহিক অগ্রগতির কারণে লাতিন আমেরিকায় দেশ দুটি এখন বিশেষভাবে আলোচিত।

সংঘাতই সবচেয়ে বড় বিভাজন

তালিকার একেবারে নিচে রয়েছে আফগানিস্তান, ইয়েমেন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সিরিয়া, সুদান, হাইতি, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, দক্ষিণ সুদান ও মিয়ানমার।

এসব দেশ বহু বছর ধরে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা মানবিক সংকটের মুখে রয়েছে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নারীদের ওপর।

সবচেয়ে নিচের ১২টি দেশের ৭০ শতাংশের বেশি নারী সশস্ত্র সংঘাতের মাত্র ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করেন। ফলে তারা বাস্তুচ্যুতি, যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং নানা ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে থাকেন।

যেসব দেশে সংঘাতের মাত্রা বেশি, সেসব দেশে ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবার অবস্থাও সাধারণত খারাপ।

বিভিন্ন গবেষণাতেও দেখা গেছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের সময় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়ে যায়। একই সঙ্গে দুর্বল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আইনি সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এখনো বিশ্বের সবচেয়ে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অন্যতম।

ডব্লিউপিএস সূচক শুধু নারী-পুরুষ সমতা পরিমাপ করে না। নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, আইনি অধিকার এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ; এসব সূচক একত্রে বিবেচনা করে এটি দেখায়, কোনো দেশ নারীদের জন্য বসবাস, কাজ এবং উন্নয়নের কতটা অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারছে।

যেসব দেশ তালিকায় ভালো অবস্থানে রয়েছে, তারা সাধারণত অর্থনৈতিক সুযোগ, শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা এবং কম সহিংসতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতায় থাকা দেশগুলো একাধিক সূচকেই পিছিয়ে রয়েছে।

ফলে এই সূচক শুধু নারীদের অবস্থাই নয়, বরং একটি দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতারও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়। সূত্র : জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রতিবাদ আর দাঙ্গা এক নয়, আলোচনা অর্থহীন: খামেনি

প্রতিবাদ আর দাঙ্গা এক নয়, আলোচনা অর্থহীন: খামেনি